দুই বছরেও অভিজিৎ হত্যার চার্জশিট হয়নি

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:১৯
 
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায় হত্যার দুই বছরেও চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ল্যাবে দুই দফায় পাঠানো ডিএনএ নমুনার ‘ক্রসম্যাচ’ প্রতিবেদন পেলেই এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
 
এ মামলায় এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮ আসামি গ্রেফতার হয়েছে। এরা হলেন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিউর রহমান ফারাবী, ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান গামা, মান্নান রাহী ওরফে ইয়াহিয়া, সাদেক আলী মিঠু, জাফরান হাসান, আমুিনল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস ও আবুল বাশার। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আনা রেদোয়ানুল আজাদ রানা লেখক ড. অভিজিত্ রায় হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা-তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ডিবি।   
 
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় অভিজিত্ রায়কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় অভিজিতের স্ত্রী বন্যাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পর অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায় বাদী হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। হত্যাকান্ডের তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করতে ঢাকায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
 
অভিজিৎ রায়ের বাবা ড. অজয় রায় বলেন, ছেলে হত্যার খুনিদের বিচারের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, ডিবি কর্মকর্তারা বলেছেন তারা চার্জশিট তৈরি করেছে। যে কোনও দিন আদালতে চার্জশিট জমা দিবে তারা। তিনি আরও বলেন, আটকরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য বলে জানতে পেরেছি। চার্জশিটেও তাদের নাম উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আরো আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
 
অভিজিৎ হত্যার পর পুলিশ গণমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে অনুসরণকারী হিসেবে এক যুবককে চিহ্নিত করা হয়। ওই যুবকের নাম মুকুল। তাকেসহ ছয়জনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে ডিবি। পরে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মুকুল নিহত হন।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হত্যা মামলার রহস্য আমাদের কাছে পরিষ্কার। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতরা সাংগঠনিক নাম ব্যবহার করেছিল। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি। তবে এখনও তাদের প্রকৃত নাম জানতে পারিনি। তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা পেলেই মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
 
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ১২ থেকে ১৩ টির মতো আলামতের ডিএনএ নমুনার প্রতিবেদন ডিবি’র হাতে পৌঁছেছে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন ৮ জনের ডিএনএ নমুনা এফবিআই ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে ইতিমধ্যে ‘ক্রসম্যাচ’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ‘ক্রসম্যাচ’ প্রতিবেদন ডিবি’র হাতে এসে পৌঁছায়নি। আগের আলামতের ডিএনএ রিপোর্টের সঙ্গে সন্দেহভাজন আট আসামির মধ্যে যাদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে, তারাই অভিজিত্ হত্যাকান্ডের আসামি হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।