রাজধানীর যাত্রাবাড়ির মৃধাবাড়ির সামাদনগরে ‘ক্ল্যাসিক সুজ’ নামে একটি জুতার বৃহত্ কারখানায় সোমবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে জুতার কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস ধারনা করছে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা চেস্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কারখানার বামপাশ থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। তখন ওই কারখানার প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি দ্রুত কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। কারখানার কর্মচারী আকবর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সকাল বেলায় কারখানার মধ্যে সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিল। কারখানার বাম পাশে একটি স্তুপ থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। প্রথমে ওই আগুন কারখানার পানি দিয়ে বার বার নির্বাপণের চেষ্টা করা হলেও ওই ধোঁয়া আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। তাত্ক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়।
কারখানার মালিক জুয়েল ও নোবেল নামে আপন দুই ভাই। ঘটনার সময় তারা কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানাটিতে দুই শিফটে দেড়শ’ শ্রমিক কাজ করেন। নুতন পুরাতন মিলে ২২টি মেশিন ছিল। এর মধ্যে আটটি মেশিনে জুতার সোল তৈরি হতো। কারখানা লাগোয়া আরেকটি কারখানায় ওই সোল দিয়ে জুতা তৈরি করা হয়। স্থানীয় বাজারসহ বড় বড় কয়েকটি কোম্পানীর জুতাও এই দুই কোম্পানীতে তৈরি করে সরবরাহ করা হত। বিশেষ করে কারখানাটিতে বাটা জুতার কাজও করা হত।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কারখানার মার্কেটিং ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কারখানার পিবিসি ইউটিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই ইউনিটের জুতার সোল ও ফিতা তৈরি করা হয়। আগুন লাগার পর বিকট শব্দ হয়। ভেতরে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কারখানার ভেতরে ৭০/৮০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তবে আগুন লাগার পরপরই ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা দ্রুত বের হয়ে আসেন।
জানতে চাইলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক জানিয়েছেন, কারখানার জুতা রাখার দ্বিতল স্থাপনা তৈরির কাজ চলছিল। ওই সময়ে ওয়েল্ডিং মেশিনের বৈদু্যুতিক স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত পাশের আরেকটি কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়ে। দুটি কারখানাই টিনশেডের আধাপাকা একতলা ভবন। আগুনে দুটি কারখানার মধ্যে একটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, কারখানায় আগুন নেভানোর কোন ব্যবস্থা ছিলনা। প্রশিক্ষত জনবলও নেই। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্¿ণে আনতেও তাদের বেগ পেতে হয়েছে। কারন, কারখানার প্রবেশের রাস্তাটি এত সরু যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে ঢুকতে পারছিল না। এরপরও খারখানায় প্রচুর রাসায়নিক পদার্থ রাখায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তদন্তের পর বোঝা যাবে। কারখানাটি এমন স্থানে অবস্থিত যার আশপাশে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু ফায়ার সার্ভিসের পানি দিয়ে আগুন নেভাতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় পৃথক আগুন লেগে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর ইসলামবাগে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে তিনজন নিহত হয়েছে।
ই্ত্তেফাক/মণ্ডল
