মৌলভীবাজারে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৯

ফুফাতো ভাই ইমরানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবং ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ায় এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তার নাম নাঈমা আক্তার (১৯)। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২২মার্চ) মৌলভীবাজার শহরস্থ মুসলিম কোয়ার্টার আবাসিক এলাকায় ছাতির ভিলায়। 

নাঈমা আক্তার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আড়াইহাল গ্রামের শাহ মোঃ শওকত আলীর মেয়ে। সে চাচার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পড়াশোনা করতো।

প্রত্যক্ষদর্র্শীরা জানান, শুক্রবার ভোরে (প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম) চাচার ভাড়াটিয়া বাসার ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে নাইমা। পরে দুপুরে  এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে নাঈমার মরদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নাঈমার বড় ভাই শাহ মোঃ বুরহান উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ফুফাতো ভাই ইমরান (৩০) আমার বোনকে ওদের ঘরে ডেকে নেয়। ইমরান জোর করে নাঈমার অশ্লীল ছবি তোলে। নাঈমা লজ্জা এবং ভয়ে কাউকে কোনদিন বলিনি। এরপর থেকে বোনকে বিভিন্ন সময় কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিল ইমরান। পরে ইন্টারনেটে বোনের অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেবে বলে নাঈমাকে হমকি দেয়। বিষয়টি আমার প্রবাসী চাচা আব্দুল ক্ইায়ূমকে জানায় নাঈমা। চাচা বিষয়টি নিয়ে ইমরানকে ডেকে হুশিয়ার করেন। গত ২২মার্চ শুক্রবার চাচার ভাড়ার বাসার ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে জুলন্ত অবস্থায় নাঈমাকে পাওয়া যায়।’

ইমরান প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুমের ভাগিনা। সে তার মামার বাসায় বসবাস করতো। ইমরান সিলেট ওসমানীনগর উপজেলার বকসিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মন্নাফের ছেলে।

এ ঘটনা নিয়ে শহরে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এ ঘটনায় নাঈমার স্বজনদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নাঈমার ভাই শাহ মোঃ বুরহান উদ্দিন বাদী হয়ে ইমরান আহমদসহ ৩ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ২৬ মার্চ মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

মৌলভীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহম্মদ জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা মুসলিম কোয়ার্টাস এর ছাতির ভিলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। হাসপাতাল থেকে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ঘটনার পর থেকে ইমরানের পরিবারের সকলে পলাতক রয়েছে। আমরা ইমরানকে আটকের চেষ্টার পাশাপাশি মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্য চেষ্টা করছি।’

ইত্তেফাক/নূহু