ওরা ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে চাকরি নিয়ে ডাকাতি করে

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:২৮

পরিকল্পিতভাবে সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে গার্মেন্টস, ব্যাংক, স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করতো তারা। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গার্মেন্টসে ডাকাতির ঘটনায় এই চক্রের মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মাহাবুবুর রহমান ওরফে ফিরোজ মোল্ল­া ওরফে আবদুল খালেক মিয়া (৫১), খলিলুর রহমান রানা ওরফে রানা সর্দার ওরফে ফিরোজ (৪০), বেলায়েত হোসেন ওরফে আকন্দ (৪২), ইকবাল হোসেন রুবেল ওরফে রুবেল (৩৭), ফারুক হোসেন ওরফে বাবুল ওরফে আলম শিকদার (৫০) ও উজ্জ্বল বিশ্বাস (৩৪)। তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ১টি অস্ত্র, ৫ রাউন্ড গুলি, ১ ট্রাক উদ্ধার করা হয়।

র্যাব সদর দফতরের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাকাত দলের দুই সদস্য ছদ্মনামে চাকরি নেয় একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে। এরপর এক দিনের মধ্যেই কালিয়াকৈরের নীট প্লাস গার্মেন্টসে নিরাপত্তা প্রহরির চাকরি হয় তাদের। খবর আসে কর্মীদের বেতন দেয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা ভল্টে রাখা হবে। গত ৭ জানুয়ারি ডাকাত দলের সদস্যরা বাইরে থাকা অন্য সদস্যদের খবর দেয়। রাতে অন্য নিরাপত্তা প্রহরিদের অজ্ঞান করে ভল্ট ভেঙে লুট করে নেয় তিন কোটি ৪১ লাখ টাকা।

মাহমুদ খান বলেন, এই চক্রটি ভুয়া নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ডাকাতি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মৌচাকের লিড প্ল­াস লিমিটেড নামের গার্মেন্টেসে ডাকাতির মাধ্যমে তিন কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকা লুট করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই গার্মেন্টস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াম আহমেদ পাটোয়ারী। তিনি র?্যাব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগনামাও দেন। ওই অভিযোগপত্রের   পরিপ্রেক্ষিতে র?্যাব তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ডাকাতির ঘটনার কিছু তথ্য-উপাত্ত হাতে পায় র?্যাব। এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আবদুল খালেক নামের ছদ্মনাম পরিচয়ধারী নিরাপত্তারক্ষীর প্রকৃত নাম মাহবুবুর রহমান এবং আলম শিকদারের প্রকৃত নাম ফারুক হোসেন। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছিলেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি একযোগে খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্ল­া, বরিশাল, ঢাকা ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া ওই গার্মেন্টেস থেকে লুট হওয়া টাকার মধ্যে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, মাহাবুবুর রহমান ও খলিলুর রহমান রানা এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। তাদের সহযোগিতায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাহাবুব ও ফারুক বিস্কুট, পানির সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের অচেতন করে। পরে অচেতন অবস্থা নিশ্চিত হলে দলের অন্য সদস্যের সহযোগিতায় ডাকাতি করে তারা।

র্যাব জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। এ দলের চারজন গার্মেন্টস কেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং অন্যরা অন্য ব্যবসায় জড়িত। মাহবুব ও ফারুক সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে একাধিকবার বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করেছে। রানা গার্মেন্টসে লটের ব্যবসা করে এবং রুবেলের মিরপুরে-১ এ ‘রোজ ফ্যাশন’ নামে একটি গার্মেন্টসের কাপড়ের দোকান রয়েছে। রানা ও রুবেল লুটের টাকা দিয়ে ছোট খাটো একটি গার্মেন্টস চালু করার জন্য ১৫টি গার্মেন্টস মেশিনারি ক্রয়ও করেছে বলে জানায় র্যাব। অপর সদস্য বেলায়েত বর্তমানে ঝালকাঠিতে হাঁস-মুরগির খামার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের সহযোগী উজ্জ্বল গোপালগঞ্জে মোবাইল ও টেলিকম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের অধিকাংশ সদস্য ইতিপূর্বে একাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে র্যাবের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

ইত্তেফাক/নূহু