বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো মাসব্যাপী একুশে নাট্যোত্সব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় এই নাট্যোত্সব।
পথনাটক থিয়েটার সার্কেলের (মুন্সিগঞ্জ) ‘মাগো ওরা বলে’ এবং মঞ্চনাটক প্রাচ্যনাটের ‘মহাবিদ্যা’ দিয়ে উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয় এই নাট্যোত্সবের। বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩০টি নাট্যদল পথনাটক এবং ২৭টি নাট্যদল মঞ্চনাটক নিয়ে এ উত্সবে অংশগ্রহণ করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হতো নাট্যদলগুলোর পরিবেশনা।
আজ ঢাকা থিয়েটারের পরিবেশনায় আনন জামানের রচনায় ‘অরোনবা মৈরী’ নাটকের মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী এই নাট্যোত্সবের আয়োজন। মাসব্যাপী এই নাট্যোত্সবে ছিল প্রাচ্যনাট, কণ্ঠশীলন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি,প্রাঙ্গণমোর, থিয়েটার (বেইলি রোড), আরণ্যকের মতো স্বনামধন্য নাট্যদলের পরিবেশনা। অংশগ্রহণ করা নাট্যদলগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি, তারিক আনাম খানের গাধার হাত ও বন্দুক যুদ্ধ, শহীদ মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর, শিশির রহমানের বিবাদী সারগাম, গোলাম সরোওয়ারের গালিভারের সফর, সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, ঋত্বিক ঘটকের জ্বালা, মান্নান হীরার ‘জুবলী হোটেলের মতো উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মঞ্চায়ন করে।
১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক সমকালীন বাস্তবতা এবং ব্রাত্যজনের অমিত তেজের সরল সত্যের শৈল্পিক প্রকাশ, মানুষের চিন্তা-চেতনার বৈপরীত্য নিয়ে ব্যঙ্গ, সমাজের অসঙ্গতি, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীরকন্যা প্রীতিলতা, দেশ ভাগ, ধর্ম, জাতিভেদ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বর্ণপথা,উপমহাদেশের রাজনৈতিক জটিল ক্রমধারায় ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর নোয়াখালীতে ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো ঘটনাগুলো উঠে আসে মঞ্চায়িত নাটকের মধ্য দিয়ে।
ইত্তেফাক/আনিসুর
