শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল

ফাইনালে উঠার হাতছানি চট্টগ্রাম আবাহনীর

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:০৪
ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল আসরের পরিধি। ৮ দলের সমন্বয়ে গড়া টুর্নামেন্ট হতে বিদায় নিয়েছে চার দল। তন্মধ্যে দেশের অন্যতম সেরা দুই ফুটবল দল ঢাকার আবাহনী ও মোহামেডান। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী এখন টুর্নামেন্টে আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। আজ সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনী খেলবে কোরিয়ান দল পোয়েচন সিটিজেন এফসির বিপক্ষে। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
 
দেশের ফুটবল প্রিয়দের ভরসা এখন কেবলই স্বাগতিক আবাহনীর। আর দলটির সামনে রয়েছে দ্বিতীয়বার টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার হাতছানি। অবশ্য তার আগে কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে।
 
দুই দলের ফুটবল যুদ্ধে কে জেতে আর কে হারে তা দেখার জন্য অধির আগ্রহ নিয়ে চট্টলাবাসীর সঙ্গে অপেক্ষা করছে অন্য ফুটবলপ্রেমীরা। শেখ কামাল ক্লাব কাপের প্রথম আসরেও গ্রুপ পর্ব টপকানো সম্ভব হয়নি ঢাকার আবাহনীর। প্রথম আসরে শেষ চারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল ঢাকার মোহামেডান। চলতি আসরে দুই দলই হতাশ করেছে ফুটবল ভক্তদের। স্বাগতিক আবাহনী টুর্নামেন্টের শেষ ঠিকানায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়। প্রতিপক্ষ কোরিয়ান প্লেয়ারদের গতি, পজিশন জ্ঞান ও খেলার নানা কৌশল, দ্রুত স্থান পরিবর্তন সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে অতিথি দলটি। সঙ্গত কারণেই আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী টিটু ছক কষছেন কিভাবে তাদের আটকানো যায়। কোচের ধারণা নিজেদের সীমানায় শক্ত প্রতিরোধের কাজটা ঠিকঠাক ভাবে করে নিতে পারলে ফাইনালে ওঠার ভালো সুযোগ আছে। তবে নিজেদের গোল মুখটাও আগলে রাখতে হবে।
 
গত দুদিন ধরে চট্টগ্রামের হালিশহরস্থ সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে টিটু তার শিষ্যদের নিয়ে অনুশীলন চালিয়েছেন। এক জয় ও দুই ড্রয়ে বি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে শেষ চারে সুযোগ পেলেও চট্টগ্রাম আবাহনী রক্ষণভাগ ছিল একেবারে নড়বড়ে। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মানাং ক্লাব ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সহজেই। ভাগ্যের সহায়তায় বিপদমুক্ত হয়ে ২-২ গোলে ড্র করেছিল সেদিন। রক্ষণভাগ নিয়ে চিন্তিত কোচ টিটু পরিবর্তনেরও আভাস দিয়েছেন।
 
কোরিয়ার দলটিতে রয়েছে টোটাল ফুটবলের ছোঁয়া। একই ধাঁচে খেলে, তারা যখন আক্রমণে ওঠে, দুই উইংও তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে। আবার হঠাত্ অবস্থানও বদলায়। মাঝ মাঠের রোটেশনও চমত্কার। তাই আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে খেলবো। ম্যান মার্কিং কোনো অবস্থাতেই প্রযোজ্য নয়। তাদের কৌশলগুলো আমাদের বুঝে নিতে হবে। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে বুদ্ধি করে খেলতে হবে। আসল জায়গাটা হলো গোলের সামনে। এর আশপাশে পোচেয়ন যতই আক্রমণ করুক আমরা প্রতিরোধ করতে পারলেই সাফল্য আসবে আমাদের জানিয়েছেন কোচ টিটু।
 
কোচ জানিয়েছেন আমাদের লক্ষ্য থাকবে আগে পিছিয়ে না পড়া। নিজেদের সীমানা আগলে রেখে আক্রমণে ওঠা এবং প্রতিপক্ষের জালে বল ফেলা। আমাদের রক্ষণাত্মকও খেলতে হবে। কারণ আমাদের চেয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা পজিশন জ্ঞান ও টেকনিকে অনেক পরিপক্ক। বল নিয়েও তারা অনেক স্বচ্ছন্দ। আমাদের ছেলেরা ডমিনেট করতে ব্যর্থ হলে, তারা আমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। সে সুযোগটা দেওয়া যাবে না। এ সকল বিষয়গুলো মাথায় রেখে খেললে ফাইনালে পৌঁছা সম্ভব হবে স্বাগতিকদের এমন বিশ্বাস কোচ সাইফুল বারী টিটুর।
 
 
ইত্তেফাক/মাহাদী