পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে রাজধানীর গাবতলীতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। বুধবার হামলার সময় গ্রেফতারকৃত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। অপর দিকে পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে বুধবার পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে নিহত বৈশাখী পরবহনের চালক শাহ আলমের (শাহিনুর প্রধান) লাশ ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের প্রহরায় জয়পুরহাটে পাঁচবিবির পশ্চিম বালিঘাটা গ্রামে পাঠানো হয়েছে। তবে শাহ আলম নিহত হবার ঘটনায় আজ পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে গাবতলীতে শ্রমিকদের তাণ্ডব, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দারুস সালাম থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক তুফানসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ মোট আসামি করা হয়েছে ১২’জনকে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের তাণ্ডব সম্পর্কে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির একজন নেতা জানান, ধর্মঘট ডেকেছিল শ্রমিকরা। ফলে তাদের সাথে আমাদের একাত্মতা ঘোষণা করতে হয়েছিল। এ কারণে মঙ্গলবার বিকালে গাবতলী টার্মিনালে শ্রমিক মালিক সমাবেশে ধর্মঘট শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সাধারণ শ্রমিকরা বিষয়টি মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু ওইদিন সমাবেশ শেষে আমরা চলে আসার পর আন্তঃজেলা ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিকদের উস্কে দেয়। কিন্তু তারা সাধারণ শ্রমিকদের খুব একটা টানতে পারেনি। এ অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে মাটিকাটা শ্রমিকদের জড়ো করে পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল শুরু করে। তা সত্বেও পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। এরপর হামলাকারীরা পুলিশের একটি রেকার, পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখানেই শেষ না একজন পুলিশ সাজেন্টকে মারধর তার মোটর সাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে দশটার দিকে পুলিশ টিয়ার সেল ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব।
দারুস সালাম থানার অফিসার ইনজার্জ (ওসি) সেলিমুজ্জামান বলেন, গাবতলী বাস টার্মিনালে হামলার নেতৃত্ব দেয় আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক তুফান।
গ্রেফতারকৃতরা কী পরিবহন শ্রমিক এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এরা নিজেদেরকে শ্রমিক বলে দাবী করছে। তবে বিষয়টি তদন্ত শেষে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ইত্তেফাক/মণ্ডল
