সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি প্রতিটি পত্রিকা অফিসের নিজস্ব নীতিমালা থাকতে হবে—মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা অত্যন্ত জরুরি। নীতিমালা যাই হোক, বাস্তবায়নটা অত্যন্ত জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে সবাইকে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন গণমাধ্যম চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, নাসিমুন আরা হক মিনু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজ ২৪-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সেমিনার উপ-কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল দত্ত।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকারিভাবে নীতিমালা হচ্ছে। তবে প্রতিটি পত্রিকা অফিসে সাংবাদিকদের কোন নীতি মেনে চাকরিতে যোগদান করানো হচ্ছে। কোন স্কেলে বেতন দেওয়া হচ্ছে। কোন ক্ষমতাবলে ও কী কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মীর নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে এ বিষয়ে আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করে আগামী বছরের ৮ মার্চের আগে নারী কর্মীর কর্মক্ষেত্রে অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের অগ্রগতির প্রতিটি বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তথ্য মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট করতে হবে। এসব নিয়ম পালন ছাড়া কোনো ক্ষেত্রেই দেশে টেকসই উন্নয়ন হবে না।
তাসমিমা হোসেন বলেন, নীতিমালা ছাড়া গণমাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে না। নীতিমালাটি সরকারের উদ্যোগে সকলের মতামতের আলোকে প্রণীত হলে তা কার্যকরী হবে।
সাইফুল আলম বলেন, আইন অনেক আছে কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নীতিমালা করলেই শুধু হবে না, সেটি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও থাকতে হবে।
পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি লড়াকু মনোভাব নিয়ে সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে হবে।
অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ১টা দিন যদি গণমাধ্যমে নারীদের অবস্থা, অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, তবে এতে বোঝা যায়, বর্তমানে নারী বৈষম্যতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।
মূল প্রবন্ধে শাহনাজ মুন্নী বলেন, গণমাধ্যমে পুরুষের পাশাপাশি বহুদিন ধরে নারীরা কাজ করলেও তাদের চলার পথ মসৃণ নয়। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাদের সামনে এগোতে হয়। তাই পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং পেশার প্রতি যাদের আবেগ আছে তারাই কেবল টিকে আছে। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি বাড়লেও সংখ্যাগতভাবে নারীদের উপস্থিতি ততটা বাড়ছে না। কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মকবুলা পারভীন বলেন, গণমাধ্যমে নারীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বাড়লেও তাদের সম্মান বাড়েনি।
ইত্তেফাক/নূহু
