গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খাঁনকে অস্ত্র আইন মামলায় একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সুন্দরগঞ্জ) বিচারক মইনুল হাসান ইউসুব তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মুক্তারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের তিনটি অস্ত্র ব্যবহ্নত হয়। এর মধ্যে কাদের খাঁন একটি অস্ত্র স্বেচ্ছায় থানায় জমা দেন। এছাড়া তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও একটি অস্ত্র বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় কাদের খাঁনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। এর আগে ১০দিনের রিমান্ডে নিয়ে ১৬৪ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাদের খাঁন অপর একটি অস্ত্র ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে কিছু না জানায় একটি অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২১ফেব্রুয়ারি বিকেলে বগুড়া জেলা শহরের কাদের খাঁনের পরিচালিত গরীব শাহ ক্লিনিক থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান। একই আদালতের বিচারক শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের চতুর্থ দিনে কাদের খাঁন আদালতে ১৬৪ ধারায় এমপি লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাস্টাপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় এমপি লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে ১জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ লিটন হত্যার ঘটনায় কাদের খাঁন, তিন কিলার, চার সহযোগী ছাড়াও ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ইত্তেফাক/জামান
