মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেসের বাণিজ্য বিষয়ক সাব-কমিটির সদস্য জর্জ হোল্ডিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া নর্থ ক্যারোলিনা থেকে নির্বাচিত এই কংগ্রেস ম্যানের সঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন, জঙ্গিবাদ মোকাবেলার বিষয়ে আলোচনা হয় রাষ্ট্রদূতের।
রাষ্ট্রদূত কংগ্রেসম্যান হোল্ডিংকে তার ব্রিফিংয়ে বলেন, ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসিভুক্ত) মধ্যে ৩৪টি যুক্তরাষ্ট্র বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ সুবিধা পাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত যোগ করেন, বাংলাদেশসহ বাকি ১৪টি দেশকে ন্যায় ও সুবিচারের ভিত্তিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়া হোক।
নারী দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নের চিত্র ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা অবস্থান করছে। প্রধানমন্ত্রী, সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী, সংসদের স্পিকারসহ ৫ জন মন্ত্রী নারী। শুধু তাই নয় সংসদের ৩৫০ সদস্যের ৭০ জন নারী, অর্থাৎ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ২০ শতাংশ নারী।
শুধু তাই নয় গার্মেন্টস খাতে কর্মরত ৪০ লাখ জনবলের ৯০ শতাংশ নারী যারা দারিদ্র নিরসন, শিশু শ্রম কমানো ও উগ্রবাদ রুখতে সহায়তা করছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দিলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ দারিদ্রের দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে উগ্রবাদের মোকাবেলা করতে পারে।
রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন সবধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেরও প্রশংসা করেন তিনি। কংগ্রেসম্যান হোল্ডিং বৈঠকের জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময়ে বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের মিনিস্টার (পলিটিকাল) তৌফিক হাসান ও কংগ্রেসম্যান হোল্ডিংয়ের লেগিসলেটিভ ডিরেক্টর ক্রিস ডেনজেল উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/সাব্বির
