সে জন্য প্রধান কাজ ছিল প্রথম সেশনটা যতটা পারা যায় কম ক্ষতিতে পার করা। আর সেই প্রথম সেশনেই কার্যত নির্ধারণ হয়ে গেছে ম্যাচের ভাগ্য। আসলে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সৌম্য সরকারের আউট ঠিক করে দেয় ম্যাচের গতিপথ। দিনের প্রথম ১৩ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন।
গল টেস্টের পঞ্চম দিনে মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে ১৯৭ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ জেতা তো দূরে থাক, ড্র করার আশাটাও জলাঞ্জলি দিল বাংলাদেশ। জিততে যাওয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলো তারা ২৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে।
কী কারণ থাকতে পারে এই ব্যাটিং ব্যর্থতার?
এর উত্তর ব্যাটসম্যানদের হাতে থাকার কথা। গলে সাধারণত টেস্টের চতুর্থ দিন থেকে দারুন টার্ন দেখা যায়। কিন্তু ব্যতিক্রমীভাবে ২০১৩ সালের পর এবারও বাংলাদেশ গলে সড়কের মতো ফ্লাট উইকেট পেলো। গতকাল শেষ দিনেও ব্যাটিং করাটা মোটেও কঠিন ছিলো না। খোদ অধিনায়ক ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে বললেন, উইকেটে কোনো সমস্যা ছিলো না।
উইকেটে সমস্যা না থাকলেও একের পর ব্যাটসম্যানের আত্মহত্যা দেখতে হয়েছে। বলের লাইনে না গিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া এবং টিকে থাকার চেষ্টা না করাটা ছিলো চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক মুশফিক নিজেই বললেন, খেলোয়াড়দের সমস্যা ছিলো মানসিকতায়।
বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিলো ৪৫৭ রান। জয়টা অসম্ভব হলেও গলের ফ্লাট উইকেটে একশ’ ওভারের মতো ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানোটা অসম্ভব ছিল না। বিশেষ করে বাংলাদেশ আগের দিন ১৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান তোলায় আশাটা তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্গে গতকাল বিকালে বৃষ্টিরও সম্ভাবনা ছিল। মানে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে গোটা দুয়েক সেশন কাটিয়ে দিতে পারলেও হতো।
কিন্তু সৌম্য সরকার দিনের প্রথম বলেই আউট হতে হতে বাঁচলেন। কার্যত এই বোলারের হাতেই আগের দিনের শেষ বলে আউট হতে হতে একবার বেঁচেছেন। তিন বারে আর বাঁচলেন না। গুনরত্নের করা দিনের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে গেলেন। এরপর বাংলাদেশের চিরায়ত এক ধস এসে সামনে দাঁড়ালো।
গত কয়েকটা টেস্ট ধরেই ব্যর্থ হতে থাকা মুমিনুল হক ৫ রান করে এলবিডব্লু হলেন। আর সাকিব ও রিয়াদ ব্যর্থতার মিছিল ধরে রেখে দু জন হেরাথের একই ওভারে উইকেট দিয়ে এলেন। এর মাঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে লড়াই করা তামিম ইকবালও পেরেরার শিকার হয়ে ফিরলেন।
লাঞ্চের আগেই, ১০৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর আর স্বপ্ন দেখার তেমন অবকাশ ছিল না। তারপরও উত্তরসূরী উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে নিয়ে ছোট্ট একটা প্রতিরোধ করেছিলেন সেই মুশফিক। দু জনে ষষ্ঠ উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন। ৩৪ রান করা মুশফিকের বিদায়ে ভাঙে জুটি। তিন ওভার পর ফিরে আসেন ৩৫ রান করা লিটনও। এরপর এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ স্রেফ শেষটা দেখেছেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ২৮ রান করা মিরাজ যখন আউট হলেন, তার অনেক আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে।
মিরাজকে আউট করে ইনিংসে ৬টি উইকেট তুলে নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। ম্যাচে তার উইকেট ৯টি। ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রথম ইনিংসে ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিস।
ইত্তেফাক/নূহু
