ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রাবেয়া আক্তার একজন। ত্রিপুরাজুড়ে সঙ্গীত পিপাসুদের মন কেড়েছে তার গান। প্রতিবেশী দেশের অগণিত ভক্ত অনুরাগীর ডাকে শিল্পী রাবেয়া আক্তার তাই বারবার ছুটে যান ত্রিপুরায়।
রামগড় সীমান্তের ওপারে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমায় একাধিকবার সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান গেয়েছেন রাবেয়া আক্তার। এছাড়া আগরতলা, সোনামুড়া, ধর্মনগর, আসামের শিলছড় প্রভৃতি স্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
সাব্রুমের সাংবাদিক প্রতাপ বণিক জানান,‘রাবেয়া আক্তারের মধুর কণ্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে এখানে তাঁর অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী সৃষ্টি হয়েছে। একজন গুণী শিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ত্রিপুরা জুড়ে।’ রাবেয়ার ভক্ত সাব্রুমের স্কুল শিক্ষক দুলাল দাস বলেন,‘ তিনি একজন উঁচু মানের শিল্পী। কোলকাতার নামীদামী শিল্পীর চেয়ে তিনি কোন অংশে কম নন।’
ত্রিপুরার সরগম নামে একটি পত্রিকায় রাবেয়া আক্তার সম্পর্কে লিখেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ধর্মনগরে বিবেকানন্দ সার্ধশত বার্ষিকী ভবনের হল ভর্তি অনুষ্ঠানে তিনি একটানা দেড় ঘণ্টা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে তাঁর গান শুনেন।
শিল্পী রাবেয়া আক্তার জানান, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ত্রিপুরার আগরতলায় একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে তিনি রবীন্দ্র সম্মেলনে যোগদিতে প্রথম ত্রিপুরায় যান। ঐ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি প্রকাশ পায়।
সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর সীমান্তহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ভারতের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রাবেয়া। ভারতের একাধিক টিভি চ্যানেলে তাঁর একক সঙ্গীতানুষ্ঠানের লাইফ প্রচার করেছে।
ঢাকার গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বারতোপা গ্রামে জন্ম রাবেয়া আক্তারের। স্কুল জীবন থেকে সঙ্গীত র্চচা শুরু তাঁর। ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওস্তাদ মহাদেব ঘোষ, তপন মাহমুদ, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা তাঁর সঙ্গীত শিক্ষক। রবীন্দ্র সঙ্গীতের তাঁর দুটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনটি নতুন অ্যালবামের কাজ চলছে।
