নেতিবাচকতা নয়, বন্ধুত্বই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের শক্তি : পরিবেশ ও বন মন্ত্রী

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৭, ০০:১৬

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসনে মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবের কোন স্থান নেই। উন্নয়নের জন্য, মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই। সেখানে নেতিবাচকতার কোন স্থান নেই। বিভক্তি নয়, বন্ধুত্বই দু’দেশের সম্পর্কের শক্তি। তিনি বলেন, কাজের মধ্যেই সম্পর্ক, কাজের মধ্যেই সাফল্য, সেই কাজের মধ্যেই সম্পর্কের সার্থকতা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান            অতিথির বক্ততায় তিনি একথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ভারতের জনগণ যেভাবে হাতজোড় করে মানুষকে সম্ভাষণ জানায়। সেটা তাদের মহত্ত্বের পরিচয়। বিদেশী যারা ভারতে যান তাদের এই বিনম্র আচরণ বিমোহিত করে। মন্ত্রী বলেন, ভারত বিশ্বের শক্তিধর দেশের একটি। এমন বড় দেশ পাশে থাকলে অন্য দেশগুলোর মধ্যে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা মেক্সিকো ও কানাডার মাঝে আমরা এটা দেখতে পাই। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সেই নেতিবাচক আচরণকে গুরুত্ব দেয়ার সময় নেই। মানুষে মানুষে, দেশে দেশে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক খেলা থাকবেই, কিন্তু আমাদের নিজেদের ভালটা বুঝতে হবে। প্রতিবেশী দেশের, সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আমার প্রত্যাশা তরুণ প্রজন্ম সেই নেতিবাচকতা থেকে বেরিয়ে এসে দ’ুদেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় স্থাপন করবে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়েছিল। কোন কোন শক্তি এখনো সেই রাজনৈতিক মানসিকতা বহন করে চলেছে। কিন্তু নেতিবাচক রাজনীতি কোন সুফল বয়ে আনতে পারে না। তবে আশার কথা তরুণ প্রজন্ম এটাকে গ্রহণ করছে না। তারা মানুষে মানুষে, দেশে দেশে সম্পর্ক সৃষ্টিতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অনেক মিল। মানুষের আচরণে, সংস্কৃতির ঐতিহ্যে- অনেক কিছুই একরকম। আমাদের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেতুবন্ধ। তাঁর অনেক কালজয়ী লেখা এই পদ্মার পাড়ে নৌকায় বসে লেখা। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অধিকাংশ বড় নদী চীন থেকে উত্পত্তি হয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

আনন্দময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভারত সরকার বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরো জোরালো করতে সাত বছর আগে ২০১০ সালের ১১ মার্চ প্রতিষ্ঠা করে এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। গতকাল সন্ধ্যায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের কথা উঠে এল অতিথিদের আলোচনায়, শিল্পীদের পরিবেশনায়। সেইসঙ্গে সংস্কৃতির আশ্রয়ে দুই দেশের মানুষ মানুষে সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়ার প্রত্যয় জানানো হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। শুভেচ্ছা বক্তকব্য রাখেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী কু্লু। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অতিথিরা।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভারতের বন্ধু। তার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে কাজ করছে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার। শুধু ভারতের শিল্পী নন বরং বাংলাদেশের শিল্পীদের অনুষ্ঠানের আয়োজন বেশি করা হয়ে থাকে এই কেন্দ্রে। গত কয়েক বছর ধরে সেই লক্ষ্যে দুই দেশ একজোট হয়ে বেশকিছু উত্সব পালন করেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এইসব উপলক্ষ মানুষের মাঝে সম্প্রীতি বাড়িয়েছে সন্দেহ নেই। তিনি জানান, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বিভিন্ন  বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, যোগ ব্যায়াম প্রভৃতি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের শিল্পীরা ভারতেও নানা আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

পরে গান দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। মঞ্চে আসেন আইজিসিসির সঙ্গীতগুরু সন্তোষ কুমার মিশ্রা এবং তাঁর ২২ শিক্ষার্থী। সঙ্গীতের স্বরের খেলায় সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘স্বরশ্রুতি’। গানশেষে নাচ  নিয়ে আসে আইজিসিসির শিক্ষার্থী শিল্পীরা। নাচ-গানের মেলবন্ধনের পর ছিল কবিতার শিল্পিত উচ্চারণ। হিন্দি ভাষার কবিতা থেকে পাঠ করেন খালেদ হাসান মুন। এরপর শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশনায় শ্রোতা-দর্শকের নয়নে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেন আইজিসিসির ৬ থেকে ১২ বছরে শিক্ষার্থীদের দলটি। পরিবেশিত হয় ‘বাল্যকৃষ্ণ নর্তন’। অনূর্ধ্ব ১২ বছরের শিল্পীরা পরিবেশন করে ‘গোপ রস’ নাচ। নাচ-গান ও কবিতার এই পরিবেশনার মাঝে ছিল যোগ ব্যায়ামের প্রদর্শনী। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’—জাতীয় সঙ্গীতের সুরে শেষ হয় সাস্কৃতিক পরিবেশনা। সব শেষে  আইজিসিসির সঙ্গীত ও নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও স্মারক প্রদান করেন অতিথিরা।

ইত্তেফাক/নূহু