‘মিউজিক ভিডিও দিয়ে আমি তারকা হইনি’

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৭, ১৩:১৮
 
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এই ধারাবদলের সময়ও একাধিক জনপ্রিয় গান দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী-সংগীত পরিচালক আরফিন রুমী। তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে মিডিয়ায় মুখরোচক আলোচনাও কম হয়নি। তবে নিজের কাজের প্রতি সবসময় অবিচল থেকেছেন এই তরুণ মিউজিশিয়ান। নিজের ব্যস্ততাসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
 
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
 
মিউজিকের বাইরে যেহেতু অন্য কোনো কাজ করিনি, তাই এটা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছি। মাঝে নিজের ইচ্ছেতেই কিছুটা বিরতিতে ছিলাম। তবে আবার যখন কাজ শুরু করছি, তখন নিজের মিউজিক প্যাটার্নটাই পরিবর্তন করার চেষ্টা করলাম। এর ভেতরে ঐশী, বেলালের নতুন গান করেছি। বেশ কিছু চলচ্চিত্রের গানের কাজ করলাম। সর্বশেষ করলাম মনতাজুর রহমান আকবরের ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ছবির কাজ।
 
গানের ক্ষেত্রে এখন হিট-ফ্লপের অংক বদলে গেছে। এখন ইউটিউব ভিউ থেকে হিট-ফ্লপ নাকি বোঝা যায়...
 
দেখুন, এসবে কি কখনো হিট-ফ্লপ মাপা যায়। এটা একটা মাধ্যম মাত্র। আমার গান প্রত্যন্ত গ্রামের এক ছেলে মনের সুখে গাইবে, তবেই না আমি বলতে পারব যে, গানটি হিট হলো। আর আমরা ভালো কিছু গান করি। কখনো একজন কম্পোজার হিট সুর করার জন্য কাজে বসে না। কারণ হিট সুর বলতে কিছু নেই। ভালো একটি সুর করাটাই লক্ষ থাকে। তাই এসবে কান না দেওয়াটাই ভালো।
 
আর কয়েক লাখ টাকা দামের মিউজিক ভিডিও—এটাও এখন গানের অন্যতম অনুষঙ্গ। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
 
দেখুন একটি কথা বলি, আমি এই ইন্ডাস্ট্রির সর্বশেষ সংগীতকর্মী, যার একই সঙ্গে অডিও এবং সিডি দুই আমলই দেখার ভাগ্য হয়েছে। আমি ক্যারিয়ারের কঠিন স্ট্রাগলও করেছি। হুট করে কিন্তু তারকা হইনি। গায়ে হলুদে সারারাত গান গেয়ে ১ হাজার টাকা নিয়ে ঘরে ফিরেছি। তাই এ গানের ক্যারিয়ারটা আমার গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে উঠে আসা। হুট করে আমি তারকা হইনি। আর মিউজিক ভিডিওর ব্যাপারে বলি, আমার গানের হিট লিস্টে এমন কোনো গান নেই, যেটা মিউজিক ভিডিওর জন্য হিট হয়েছে। আমার কোনো বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিও নেই। মিউজিক ভিডিও দিয়ে আমি তারকা হইনি। তবে আমি মিউজিক ভিডিওর বিপক্ষে নই। কিন্তু এটা গানের কথা, সুরের শক্তির সহায়ক মাত্র। গানের কথা, সুর দুর্বল অথচ দামি মিউজিক ভিডিও করা হলো, তাতে ইন্টারনেটে ক্রেডিট কার্ড ঘষে ডলার খরচ করে ভিউ বাড়ানো যাবে ঠিকই, কিন্তু গান শ্রোতাপ্রিয় হয় না তাতে।
 
জাগো এফএমে নতুন শো উপস্থাপনা করছেন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতাটা কেমন?
 
খুব ভালো। কারণ আমি আগামীতে নতুনদের জন্যই প্রতিনিয়ত কাজ করে যেতে চাই। সেই ভাবনা থেকেই এটি একটি ট্যালেন্ট হান্ট শো। আমরা প্রতিটি শোতে একজন মেধাবী কণ্ঠকে উপস্থাপন করি। তাই রেসপন্সটাও দারুণ পাচ্ছি।
IMG0
ফিল্মের ক্ষেত্রে এখন দেশের বাইরের শিল্পীদের অন্তর্ভুক্তিটা খুব সাধারণ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
 
আমার মনে হয়, এটা যার যার অভিরুচির ব্যাপার। ফিল্ম প্রডিউসারের এ বিষয়ে একটু ভাবা উচিত। কারণ পাশাপাশি তাদের এটুকু ভাবা উচিত যে, ওখান থেকে আমরা বা আমাদের শিল্পীরা কতটুকু ডাক পাচ্ছি।
 
কিন্তু অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেন যে, রুমি ও তার সমসাময়িক অনেকেই নাকি চড়া পারিশ্রমিক নেন বলে তারা বাধ্য হয়ে পাশের দেশের শিল্পীদের কাছে যান।
 
এটা নিছক অজুহাত ছাড়া আর কিছু নেই। দেখুন, আমার জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যাদের আমি বিনা পারিশ্রমিকে গান বেঁধে দিয়েছি। আমরা ছবির প্রোডাকশন তাদের সামর্থ্যটা বিবেচনা করে কথা বলি। অন্যরা তো এটা বুঝবে না। আরেকটা বিষয় হলো, ধরুন একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের প্লে-ব্যাক ওপার বাংলার বা মুম্বাইয়ের কোনো শিল্পীকে দিয়ে গাওয়ানো হলো, তিনি কিন্তু গানটি ভয়েস দেওয়ার পর ভুলেই যাবেন। তাকে কোনো প্রমোশনেই পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা গানটি রীতিমতো লালন করি। গানটি গেয়ে প্রত্যেক শিল্পী বয়ে বেড়াই বিভিন্ন স্টেজে। তাই নিছক অজুহাত দিয়ে নিজেদের শিল্পীদের দূরে ঠেলে দেওয়ার কোনো মানে নেই। তাতে তরুণ শিল্পীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি।
 
লাখ ভিউ, কোটি ভিউ নিয়ে এখন বিশেষ ক্যাম্পেইন চলে, আপনার কোনো গানের সেলিব্রেশন এমন ভাবে করেছেন?
 
হা হা হা। না, দেখুন। আমার গানের সেলিব্রেশন হয়েছে মাঠে। বা এখনো হয়। আমি এক লাইন গাই, সামনে কয়েক হাজার শ্রোতা-দর্শক বাকিটা গায়। এখন গানের প্রশংসা করতে গিয়ে অনেকে নাকি বলে, ভাইয়া আপনার গানের ফিমেল মডেলটা খুব সুন্দর ছিল। গানের প্রশংসা বা আলোচনা এখন কথা, সুরের বাইরে অন্য জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রবণতাটা কোনো মাপকাঠি হতে পারে না। এটা গানের জন্য আরও লজ্জার বিষয়।