রক্তে ঝরা ‘জয় বাংলা’

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৭, ০৮:৫১
 
১৯৭১ সালের মার্চ থেকেই সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন আমাদের মুক্তির আন্দোলন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বললেন: ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়’। ওই বছর আর্ট কলেজে আমার ফার্স্ট ইয়ার থেকে সেকেন্ড ইয়ারে ওঠার কথা ছিল। বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা। কলেজে শুরু থেকেই আমি জড়িয়ে পড়েছিলাম রাজনীতির সঙ্গে। তখন থেকেই আমি পোস্টার-ফেস্টুন করতাম। আর ভেতরে ভেতরে ভাবছিলাম কবে আমরা স্বাধীন হবো। কবে বুক ফুলিয়ে বলবো, ‘জয় বাংলা’।       
 
মার্চে আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ— আমরা পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করছি, মানুষকে সংগঠিত করছি। আমরা আসলে তখন জেগে উঠেছিলাম। বঙ্গবন্ধু তো বলেছেনই: ‘তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু— আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না’। রেনেসাঁর মতো ছিল আমাদের সেই সময়— আমাদের এগিয়ে যাওয়া। মানুষের সাথে মানুষের যে সম্পর্ক হয়েছিল— যে একতা ছিল— সেটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।
 
রেসকোর্সে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে সেদিন আমি আর্ট কলেজের ছাদে উঠেছিলাম। মানুষের পর মানুষ আসছে। একের পর এক নেতারা ভাষণ দিচ্ছেন। আর আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য। কী অদ্ভুত আর দারুণ কণ্ঠে তিনি বললেন: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা”। এমন অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। সহজে ভোলা যায় না। ভুলিনি।
 
লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী