ওবামার আমলে আমাদের দু’জনের ফোনেই আড়িপাতা হয়েছিল

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৭, ০৯:৫৩

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এবং তিনি নিজে ফোনে আড়িপাতার শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কেল। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে সম্ভবত কিছু মিল আছে। অতীতে আমরা দুজনেই নজরদারির শিকার হয়েছি।’ ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফোনে আড়িপাতার এই অভিযোগটি বেশ কয়েকদিন ধরেই করে আসছেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প তার অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার মুখপাত্র ট্রাম্পের অভিযোগটি ‘স্রেফ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন। বিষয়টি অস্বীকার করেন দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মার্কিন সিনেটও জানিয়ে দিয়েছে, এ অভিযোগের সত্যতা নেই।

অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ফোনে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র আড়ি পেতে আসছে বলে ২০১৩ সালে জানা যায়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার গোপন নথির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সেই সময় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধও দেখা দিয়েছিল। মার্কেলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ট্রাম্প ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগ নতুন করে সামনে নিয়ে আসলেন।

ট্রাম্প-মার্কেলের প্রথম বৈঠকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসবিরোধী লড়াই, ন্যাটো জোটে সহায়তা বাড়ানো এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন দুই নেতা। ট্রাম্প তার মুক্তবাণিজ্যে বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, যার সমাধানে তিনি নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য বাধা দূর করার পক্ষে কথা বলেন। ন্যাটো জোটের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি অটল থাকবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ওই বৈঠকে হূদ্যতাপূর্ণ আলোচনা হলেও, অভিবাসন ও পররাষ্ট্র নীতিতে দুই দেশের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বৈঠকে তাদের আন্ত:আটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের ভারসাম্য নিয়ে কথা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে মার্কেল ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ট্রাম্পের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। অপরদিকে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প মার্কেলের শরণার্থী গ্রহণের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু