এক যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় পটুয়াখালীর সার্কেল এএসপি সাইফুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশের আইজিপির হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক মামলায় কেএম হাফিজুর রহমান ওরফে বিজয়কে এসআই ফেরদৌস আলম গ্রেফতার করে থানা হাজতে আটক রাখে এবং একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় এএসপি সাইফুল ইসলাম আসামিকে থানায় ডিউটিরত সেন্ট্রি কনস্টেবলের মাধ্যমে থানা হাজত থেকে বের করে ওসির রুমে এনে বেধড়ক মারপিটসহ শারীরিক নির্যাতন করে এবং এটি তদন্তে প্রমাণিত হয়।
একই সঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আজ রবিবার বেলা ২টার সময় এই প্রতিবেদনের ওপর বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর সার্কেল এএসপি সাইফুল ইসলামকে সেখান থেকে অবিলম্বে বদলির নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পুলিশ হেফজতে এক যুবককে নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয় সেখানে।
যুবককে থানায় ধরে এনে নির্যাতনের ঘটনায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এএসপি ও ওসিকে আদালতে তলব করে। ওই তলব আদেশে হাইকোর্টে হাজির হন এএসপি সাইফুল ও ওসি। এএসপির লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, হাফিজুর রহমান বিজয় নামক যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করা হলেও সেখানে নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। পরে জামিন পেয়ে নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। এই নির্যাতনের ঘটনা বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, আইনানুযায়ী যুবককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন হয়নি। ওসির ব্যাখ্যায় বলা হয়, তিনি সেদিন দায়িত্বে ছিলেন না।
শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, পুলিশের হেফাজতে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে সচরাচর কেউ আদালতের দ্বারস্থ হয় না । কিন্তু এ ঘটনায় রিট করা হয়েছে। ওসির পক্ষে আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এএসপির পক্ষে আইনজীবী শম রেজাউল করিম এবং রিটকারী পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে 'বাউফলে ওসির রুমে নির্যাতন' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা হাজত থেকে এক আসামিকে ওসির রুমে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তার নাম হাফিজুর রহমান বিজয়। বিজয়ের মা জোসনা বেগম অভিযোগ করেন, রবিবার সন্ধ্যার দিকে একটি মামলায় তার ছেলে হাফিজুর রহমান বিজয়কে বাউফল থানার এসআই ফেরদৌস গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং ওই দিন রাত ১২টার পর তাকে থানা হাজত থেকে বের করে ওসির রুমে এনে শারীরিক নির্যাতন করেন। রাত দেড়টা পর্যন্ত কয়েক দফা তার ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। লাঠি দিয়ে তার ছেলেকে পেটানো হয়।
