চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৭, ১৯:৫০
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে রক্ষায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করায় চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রায়ের নির্দেশনাসূমহ প্রতিপালন না করায় কেন তাদেরকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। 
 
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্স্রবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কক্স্রবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়), সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 
 
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাঈদ আহমেদ কবীর।
 
প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে ২০০৯ সালে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করে বেলা। ওই রিটের ওপর ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলঅর পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোন স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। এছাড়া কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। সেইসাথে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী শাস্তি প্রদানেরও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। 
 
আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন গড়ে উঠেছে প্রায় ১০৬টি হোটেল, মোটেলসহ নানা স্থাপনা। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন ও বেলা’র সরেজমিন পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। ওই আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে।