পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বনভূমি রক্ষা এবং নতুন বনায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নতুন নতুন বনায়নের ফলে আমাদের বনের পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবেশ রক্ষা ও বনভূমি উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের। তাই বিদেশি সহায়তার জন্য অপেক্ষা না করে আমাদের কাজ আমাদেরকেই করতে হবে। সামাজিক বনায়নে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের কাছে এখন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে আন্তর্জাতিক বন দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বন প্রকৃতির শক্তির আধার’ -এ স্লোগান ধারণ করে বন অধিদপ্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, একদিকে যেমনি আমরা জমি হারাচ্ছি অন্যদিকে নতুন জমিও পাচ্ছি। নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সুন্দরবনের পাশে বিশাল ভূমি জেগে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রায় আরেকটি বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর সাগরের মাঝে থেকেও এ ধরনের জমি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডের আয়তন দ্বিগুণ করেছে। বাংলাদেশেরও এ সুযোগ কাজে লাগানো দরকার।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের দেশ ছোট, জনসংখ্যা বেশি। এতে চিন্তার কারণ নেই। বেশি মানুষ মিলে ছোট দেশকে এগিয়ে নিব। মানুষ বৃক্ষরোপণে সচেতন হয়েছে। সচেতনতা আরো বাড়ছে। বনায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ যত বাড়বে আমাদের উন্নয়ন তত বেশি গতিশীল হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। সে অপবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের ওপর ১ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। এ জনগণের জীবন-জীবিকার চাহিদা নিশ্চিত করে সুন্দরবন ও এর প্রাণসম্পদ রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সরকার নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপ-মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, সরকার দেশের বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বদ্ধ পরিকর এবং এ জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরই এ দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা জনগণকে সরকারের উন্নয়ন কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন সহযোগী ও একই সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান করেছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী বক্তব্যে বলেন, ১৮৬৫ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করারও অনেক আগে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলকে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আশির দশক থেকে বন অধিদপ্তর সামাজিক বনায়ন শুরু করে। এখন বনের উপর নির্ভরশীল মানুষদের সম্পৃক্ত করে সহব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন রক্ষা করা হচ্ছে।
এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সু লাতজে বলেন, বন সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হতে সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে।
ইউএনডিপি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। এটি অনেক কঠিন কাজ। টেকসই উন্নয়নের জন্য বন সংরক্ষণ ও পরিবেশের উন্নয়নের মত কাজেও বাংলাদেশকে সফল হতে হবে। এ দেশের বিরাট যুবসম্পদকে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বন দিবস উপলক্ষে পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, ইউএনডিপি’র আরিফ ফয়সাল এবং বন বিভাগের ড. জাহিদুর রহমান মিয়া।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ, সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী, আইইউসিএনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।
ইত্তেফাক/নূহু
