টিচার’স/ব্ল্যাক ডগ বুধবার, ১০০ পাইপ, বৃহস্পতিবার ভ্যালেন্টাইন/ব্ল্যাক লেবেল ও শনিবার সিভার্স রিগ্যাল। না, কোন সৌখিন মানুষের একঘেয়েমি কাটাতে বিভিন্ন বিদেশী ব্র্যান্ডের মদের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা নয়। দামী পানীয়র এই আয়োজন হরিয়ানার এক মহিষের জন্য। নাম ‘সুলতান’।
মাত্র সাত বছর বয়স। তাতে কি। প্রতিবেলা খাবারের পর পানি নয়, সুরাতেই তৃষ্ণা মেটায় সুলতান। তাও যেকোনো মদ নয়, চাই উৎকৃষ্ট মানের বিদেশি স্কচ। এমন আয়োশী অভ্যাসে সুলতানের ওজন দাঁড়িয়েছে ১৭শ’ কেজিতে।

সুলতানের এমন শখ পূরণে উদ্যোগী তার মালিক রাম নরেশ বেনিওয়াল। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কৈশল জেলার বাসিন্দা রাম নরেশ তার পোষ্য এই দৈত্যাকার মহিষের নবাবী শখ নিয়ে একটুও বিব্রত নন । তার কাছে মুরাহ প্রজাতির এরকম আরো ১৭-১৮টি মহিষ থাকলেও সুলতানই বেশি প্রিয়।

রাম নরেশ জানান, সুলতানের একটাই দাবি, খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন থাকতেই হবে স্কচ। দিনে ১৫ কেজি আপেল, ১০ কেজি দুধ, ২০ কেজি গাজর খাওয়ার পরই চাই স্কচ। আবার সন্ধ্যার খাবারের পর চাই ১০০ মিলিগ্রাম স্কচ। সুলতানের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে মঙ্গলবারটা ড্রাই ডে রাখা হয়।
পাঁচ বছর আগে দুই বছর বয়সী সুলতানকে মাত্র দুই লাখ ৪০ হাজার রুপিতে কোঠাক থেকে কিনে এনেছিলেন রাম নরেশ। এখন এর মূল্য ২১ কোটি রুপি। রামের দাবি, সুলতান ভারতের সবচেয়ে লম্বা মহিষ।

সুলতানের সৌখিনতার পেছনে এই বিপুল ব্যয় ওর আয়ের মাত্র ৭ শতাংশের সমান। কেননা সুলতানের শুক্রাণু বিক্রী করে প্রতি বছর ৯০ লাখ টাকারও বেশি আয় করা হয়। প্রতি শুক্রাণুর মূল্য ৩০০ টাকা।
২০১৩ সালে রাষ্ট্রীয় পশু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় তিনবার জাতীয় স্তরে বিজয়ী হয়েছে সুলতান। গতবছর ও রাজস্থানের পুসকার মহিষ মেলায় সুলতানের দাম ২১ লাখ রুপি উঠলেও মালিক রাম না করে দেন। রাম নরেশ বলেন, ‘সুলতান বিক্রির জন্য নয়। তাকে আমি নিজের সন্তানের মত করে পালন করেছি।’
ভারতে মুরাহ প্রজাতি মহিষেরর চাহিদা খুব বেশি । মধ্য ও উত্তর ভারতে এই ধরনের দৈত্যাকার মহিষ দেখা যায়।
ইত্তেফাক/রেজা
