হাইকোর্টে ব্যাখ্যা দিলেন ২ বিচারক

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৭, ২০:৫২
তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মামলায় আসামির জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহন করা এবং না করার প্রশ্নে হাইকোর্টে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেছেন নিন্ম আদালতের দুই বিচারক।
 
ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৭১ ধারার বিধানমতে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন আবেদন শুনানি করার জন্য এখতিয়ার সম্পন্ন। কারন ইতপূর্বে হাইকোর্ট পৃথক চারটি মামলার আসামিকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আত্নসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জামিনের বিষয় নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলো। আইনের বিধানমতে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক এই ট্রাইব্যুনাল জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। এরপরেও জামিনের বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহন করে অনিচ্ছাকৃত কোন ত্রুটি করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করা হলো।
 
অপরদিকে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৭৪ ধারা মোতাবেক সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের পূর্ব পর্যন্ত উল্লেখিত আইনের মামলাসূমহ দায়রা আদালত শুনানির জন্য গ্রহন করেছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর আইনের ৭১ ধারার বিধানমতে দায়রা আদালত এ ধরনের মামলার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আর গ্রহনের সুযোগ নেই। একারনে জামিন আবেদনটি গ্রহন করা হয়নি শুনানির জন্য। গতকাল বিচারপতি মো: মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বশিরউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চে এই লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়। পরে শুনানি নিয়ে আদালত আজ বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
 
তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার এক আসামির জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহন করা না করার প্রশ্নে গত ১৩ মার্চ দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে হাইকোর্ট। ওই আদেশ মোতাবেক ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম এবং মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান হাইকোর্টে নিজ নিজ লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন। আদালতে আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির শুনানি করেন।
 

গত ১০ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার মোহাম্মপুর থানার আহমেদ সবুজ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে পুলিশ। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকে সরকার বিরোধী পোস্ট দিয়েছিলেন ওই যুবক। পরে মাগুরার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে তা না-মঞ্জুর হয়। পরে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন আহমেদ সবুজ। দায়রা জজ আদালত ওই বছরের ১৭ নভেম্বর জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহন করেনি। এরপর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ২৬ জানুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। ওই আপিলের শুনানিকালে হাইকোর্ট দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে।