জঙ্গিবাদে অস্ত্র-অর্থ-উত্সাহ কারা দিচ্ছে খতিয়ে দেখতে হবে

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৭, ০০:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে জঙ্গিবাদ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশ, সেখানে পড়াশোনা করতে গিয়ে উল্টো এ ধরনের জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। জঙ্গিবাদে কারা অস্ত্র, অর্থ ও উত্সাহ দিচ্ছে- তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দেন তিনি। গতকাল বুধবার তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রদত্ত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৩ ও ২০১৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের সব প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শীর্ষস্থান অধিকার করা ২৩৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ইউজিসি পদত্ত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ৫৬ জনের হাতে পদক তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কেবল ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই ব্যস্ত ছিল। শিক্ষার্থীদের হাতে তারা অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা জাতির দিকে, মানুষের দিকে তাকায়নি। তাদের অবৈধভাবে অর্জিত ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্যই সব থেকে ব্যস্ত থাকতো এবং নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নতির দিকেই তাকাতো। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী, উচ্চবিত্ত ছেলে-মেয়েরা কিভাবে ধর্মান্ধ হয়ে যায়, আর কিভাবে এই জঙ্গিবাদের পথে যায়, এটা আমার কাছে বোধগম্য না। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ। সেই মহাপাপের পথে ধর্মের নামে কি করে যায়? প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যারা শিক্ষক, তাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে, তারা কি করছে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে কি না এ বিষয়ে প্রত্যেককে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে করে এ ধরনের বিপথে আর কেউ যেতে না পারে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম পালন করি, বিশ্বাস করি, আমরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না। এই ভূখণ্ডে যার যার ধর্ম সে সে পালন করেবে সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে এবং এই অঞ্চলে সে ধরনের একটি সম্প্রীতি নিয়েই আমরা চলি। এই যে উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ, এ থেকে সকলকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর একটি হচ্ছে মাদকাশক্তি। এর কবল থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করতে হবে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব আমাদের অভিভাবকদের, তারপর শিক্ষকদের। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তোমাদেরও তাল মেলাতে হবে।’

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ মনিটরিং করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন-১৯৭৩ সংশোধন করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, আসলে মঞ্জুরি কমিশন যে অবস্থায় আছে তা দিয়ে ১৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরদারিতে রাখা সম্ভব নয়। দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৪২টি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডুকেশন কাউন্সিলও আমরা করে দিয়েছি। এ ধরনের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি- আমাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে দেশের উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন। ‘উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (এইচইকিউইপি)’ এটাও আমরা বাস্তবায়ন করেছি। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলাতেই অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয় যেন হয় সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় হয় সরকারি, না হয় বেসরকারি হবে। তবে অবশ্যই এটা মানসম্পন্ন হতে হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ স্থাপন বা পুরনো যে কলেজগুলো আছে সেগুলো সরকারিকরণ করে দিচ্ছি। এভাবে এ পর্যন্ত ৩৬৫টি কলেজ আমরা সরকারিকরণ করেছি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল গতকালই (মঙ্গলবার) আমরা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় সম্পন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এ টাকায় প্রি-প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং অধিকাংশ প্রকল্পই অনুমোদিত হয়েছে শিক্ষা বিষয়ক।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার উচ্চ শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল যন্ত্রপাতি এসবের দিকেই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী, কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের যে অর্থ সম্পদ তার বেশিরভাগই আমরা শিক্ষা খাতে ব্যয় করছি। এটাকে আসলে আমি ব্যয় মনে করি না। এটা হচ্ছে একটা বিনিয়োগ, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। যা জাতিকে গড়ে তুলবে।

কারিগরি ক্ষেত্রে এখনো দক্ষ লোক ভাড়ায় আনতে হয় মর্মে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন আমাদের হায়ার করতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের সেই মেধা বিকাশের সুযোগটা আমাদের দেশের মধ্যেই করে দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বর্ণপদক প্রাপ্তদের পক্ষ থেকে জেনিফার হাকিম লুপিন এবং স্বজন রহমান অনুভূতি ব্যক্ত করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্বর্ণজয়ী শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নেওয়া হচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় হয় সরকারি, না হয় বেসরকারি হবে। তবে অবশ্যই এটা মানসম্পন্ন হতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ স্থাপন বা পুরনো যে কলেজগুলো আছে সেগুলো সরকারিকরণ করে দিচ্ছি। এভাবে এ পর্যন্ত ৩৬৫টি কলেজ আমরা সরকারিকরণ করেছি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল গতকালই (মঙ্গলবার) আমরা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় সম্পন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এ টাকায় প্রি-প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং অধিকাংশ প্রকল্পই অনুমোদিত হয়েছে শিক্ষা বিষয়ক।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উচ্চশিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল যন্ত্রপাতি এসবের দিকেই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী, কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখেই আমাদের যে অর্থসম্পদ তার বেশিরভাগই আমরা শিক্ষা খাতে ব্যয় করছি। এটাকে আসলে আমি ব্যয় মনে করি না। এটা হচ্ছে একটা বিনিয়োগ, সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ; যা জাতিকে গড়ে তুলবে।

কারিগরি ক্ষেত্রে এখনো দক্ষ লোক ভাড়ায় আনতে হয় মর্মে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন আমাদের হায়ার করতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের সেই মেধা বিকাশের সুযোগটা আমাদের দেশের মধ্যেই করে দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে জেনিফার হাকিম লুপিন এবং স্বজন রহমান অনুভূতি ব্যক্ত করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্বর্ণজয়ী শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু