জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। চক্রটি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় লোকজনকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে আসছিল। এভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ডেকে নেওয়া ৯ যুবককেও উদ্ধার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাদশা শেখ, মামুন, রিপন হোসেন, নাসির উদ্দিন, মনিরুজ্জামান, সজল কুমার বাইন, নাছির উদ্দিন, আহসানুজ্জামান সোহাগ ও রাজিব। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, ভিসা, বিদেশে পাঠানোর অবৈধ কাগজপত্র ও বিভিন্ন ব্যাংকের সিল উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, এ চক্রের মূল হোতা আব্দুল হালিম মালয়েশিয়ায় আত্মগোপনে রয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মানব পাচারকারী চক্র ১৩ মার্চ রাতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অভিবাসন প্রত্যাশী কয়েকজনকে ট্যুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে প্রথমে ইন্দোনেশিয়া ও পরে নৌপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার করবে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর র্যাবের একটি দল ঢাকার বিমান বন্দর এলাকা থেকে অভিবাসন প্রত্যাশী সাতজনকে উদ্ধার করে। তাদের মাধ্যমে জানা যায়, চক্রের হোতা হালিম মালয়েশিয়ায় থেকে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাদশা শেখ, রিপন ও মামুন হোসেনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করছে। এরপর মঙ্গলবার রাতে র্যাব বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকা থেকে বাদশা শেখকে জাল ভিসা, পাসপোর্ট ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা জানায়, তাদের বৈধ কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স বা কাগজপত্র নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে আসছে। তারা স্বল্পকালীন ট্যুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠায়। ইন্দোনেশিয়ায় ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ চালু থাকায় সহজেই সেখানে পাঠানো যায়। এরপর অভিবাসন প্রত্যাশীদের ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে বাসযোগে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী মেদান নিয়ে যাওয়ার জন্য আরেকটি চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের পাসপোর্টে মালয়েশিয়ার জাল ভিসা লাগিয়ে দেয়া হয়। এরপর মেদান থেকে তাদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার সেলানগর প্রদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরেকটি চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চক্রটি নরসিংদী, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, যশোর ও ঢাকার আশপাশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চক্রের সদস্য মতি ও মিজানসহ অন্যরা স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের অল্প খরচে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। পরে পাসপোর্টগুলো দেওয়া হয় বাদশা, মামুন ও রিপনকে। হালিমের নির্দেশনায় বাদশা কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বৈধ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বিমান টিকেট সংগ্রহ করে। বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান, পল্টন ও বাড্ড এলাকা থেকে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়
ইত্তেফাক/নূহু
