‘যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলো খুব নিম্নমানের হলে প্রদর্শিত হচ্ছে’

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৭, ১২:৪৬
 
‘দেশা দ্য লিডার’ ছবিটি দিয়ে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন চিত্রনায়ক শিপন। এরপর আরো একটি চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেলেও মাঝে অনেকটা বিরতি চলে তার। জাজ থেকে বের হয়ে যান তিনি। এ প্রসঙ্গগুলোর পাশাপাশি চলচ্চিত্রের এখনকার ব্যস্ততা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক...
 
বেশ লম্বা সময় ধরে আপনাকে বড়পর্দায় দেখা যাচ্ছে না। এর পেছনের কারণ?
 
‘ইউটার্ন’ সিনেমার পর আমার বড়পর্দার কাজে লম্বা একটা বিরতি পড়েছে ঠিকই, তবে আমি কিন্তু সবার সাথে যোগাযোগ রেখেছি। দর্শকদের সাথে যেন দূরত্ব না বাড়ে সেজন্য টেলিভিশন লাইভ, মিউজিক ভিডিও করেছি। লম্বা বিরতির সময়টাতে আমি কলকাতায় গিয়েছি অভিনয়ের ওপর কোর্স করতে। মূলত আমি তখন অভিনয় করার চেয়ে অভিনয়টা শিখতে চেয়েছি।
 
আপনার এখনকার কাজের ব্যস্ততা কেমন চলছে?
 
হাতে জমে থাকা কাজগুলোই মূলত এখনকার ব্যস্ততা। ‘জান রে’, ‘নীল ফড়িং’, ‘বন্ধন’ ও ‘চল পালাই’ চলচ্চিত্রের কাজ চলছে। মে মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা ‘ভালোবাসার ময়না’ নামে একটি চলচ্চিত্র। যেখানে আমার বিপরীতে অভিনয় করবেন নবাগত আরশী।
 
জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে আপনিসহ আরো অনেক কলাকুশলী একসাথে বের হয়ে গেছেন। কোনো সমস্যা হয়েছিল কি-না?
 
আমি শুধু আমার কারণটাই বলতে পারবো। মাহী, বাপ্পিসহ আরো যারা বেরিয়েছেন তাদের বিষয়টা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত। জাজ মাল্টিমিডিয়া বাংলাদেশের বড় একটি প্রযোজনা সংস্থা। সেই হিসেবে তাদের চুক্তির বিষয়গুলোও একটু উঁচু মানের। আমি তখন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন। আমার কাছে মনে হয়েছে চুক্তির বিষয়গুলো আমার জন্য একটু কঠিন। কিন্তু তাই বলে জাজের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিন্তু ভেঙে যায়নি। আমি এখনো জাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিই। আবার কখনো আমার মন মতো সবকিছু মিলে গেলে হয়তো আবার জাজের চলচ্চিত্রে আমাকে দেখা যাবে।
 
আপনি তো ভারতে এখন নিয়মিত যাতায়াতের মধ্যে আছেন। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রগুলো তাদের দেশে কেমন সাড়া পায়?
 
আমাদের যুগোপযোগী কাজগুলো ওদের হলগুলোতে প্রদর্শিত হয় না বললেই চলে। আর যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলো খুব নিম্নমানের হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। আমাদের সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টারসের মতো মাল্টিপ্লেক্সে সেগুলোর কোনো প্রদর্শনী হয় না। আমাদেরও উচিত যৌথ প্রযোজনার সংবিধান মেনে কাজ করা। 
 
নায়ক হিসেবেই সিনেমায় থাকতে চান, নাকি অন্য কোনো ইচ্ছে আছে?
 
ছোটবেলায় আমি ব্যাংকার হতে চেয়েছিলাম। সেই হিসেবে এগিয়ে গেছি, কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন পর্দায় উঠে আসা। ‘দেশা দ্য লিডার’ চলচ্চিত্রের জন্য অভিনয়ের সুযোগ এলো। মনে মনে ভাবলাম যদি মূল চরিত্রে অভিনয় করতে পারতাম। পরে পরিচালক জানালেন আমার ক্যারেক্টারের নামই দেশা। কাজ করতে গিয়ে এখন অভিনয়কে ঘিরেই স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আমি নায়ক হতে চাই না, অভিনেতা হতে চাই। অভিনয় গুণে মানুষকে মুগ্ধ করতে চাই।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর