নারীর অধিকাররক্ষা ও ক্ষমতায়ন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পূর্বশর্ত

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৭, ১৯:৪৫
বাংলাদেশ বিশ্বাস করে নারী অধিকার রক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার আবশ্যিক পূর্বশর্ত। শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশন অন দ্যা স্ট্যাটাস অফ উইমেন (সিএসডব্লিউ) এর চলতি ৬১তম সেশনের শেষ দিনে ‘লেভারেজিং উইমেন্স পটেনশিয়াল ফর সাসটেইনিং পিস’ বিষয়ক এক সাইড ইভেন্টে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। 
 
টেকসই শান্তি বিনির্মাণে নারীর ভূমিকা নিয়ে প্রথমবারের মত আয়োজিত এই সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাথে সহ-আয়োজক ছিল কানাডা মিশন। আর এতে সহযোগিতা প্রদান করে ইউএন উইমেন ও জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং সাপোর্ট অফিস।
স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা দেশের সকল স্তরের নারীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সমাজে অবদান রাখবে এবং স্থায়ী শান্তির পথে যে সকল বাধা রয়েছেতা দূর করে জাতীয় জীবনে শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসাকে আরও বেগবান করবে। 
 
মাসুদ বিন মোমেন যোগ করেন, একথা নিঃসন্দেহে বলাযায় যে ৪৫ বছর আগের সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশকে আমরা এ পর্যায়ে আনতে পেরেছি জাতিগঠন ও জাতীয় উন্নয়নে নারীর কৌশলী ভূমিকার কারণে। সমাজে নারীর ক্রম অগ্রগতির ক্ষেত্রে গৃহীত প্রতিটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সবসময়ই সামনের সারিতে থেকে লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে যা আজ প্রমাণিত। 
 
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে ২০০০ সালে বাংলাদেশের গৃহীত প্রাথমিক পদক্ষেপের ফসল হিসেবেই নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে জাতিসংঘের ল্যান্ডমার্ক রেজুলেশন ১৩২৫ গৃহীত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদাই নারীদের মা, শিক্ষক, সেবাদানকারী, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও কর্মী এবং সমাজ পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে বহুমুখী ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন মর্মে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
 
জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ারুল করিম চৌধুরী, কানাডা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত মিখায়েল ডগলাস গ্রান্ট, পিস বিল্ডিং সার্পোট অফিসের উপ-পরিচালক মারি ইয়ামাসিতা, ইউএন উইমেন এর প্রতিনিধি ম্যারি ওকুমু  এবং এডুকেয়ার লাইবেরিয়া’র নির্বাহী পরিচালক ডেওলাফ্যামাক এই সাইড ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।