‘মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা, নাটকে প্রবীণ শিল্পীদেরই এগিয়ে আসতে হবে’

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৭, ১৩:২৫
 
শতাব্দী ওয়াদুদ। দেশের শক্তিমান অভিনেতা। কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক
 
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘গেরিলা’, ‘জীবন ঢুলী’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে আপনি অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রগুলোর চরিত্র প্রসঙ্গে বলুন—
 
আমি যখন ‘গেরিলা’ ছবি করেছিলাম তখন মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করেছি একভাবে, আবার যখন ‘জীবন ঢুলী’ করেছিলাম তখন ঢোল বাদকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি, আর ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ছবিতে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি একেবারেই ভিন্নভাবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে আমার উপলব্দিটা একটু ভিন্ন। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম। যুদ্ধকে সরাসরি না দেখলেও গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। আর নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র কিংবা কাজের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করেছি। এই সময়ে এসে আমার কাছে সবসময় একটা কথাই মনে হয়, তা হলো সবকিছুর ওপরে দেশ আগে। নানা মত, নানা দল থাকতেই পারে, তবে দেশের বিষয়ে আমাদের এক থাকতে হবে।
 
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আপনি কি বলবেন?
 
আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বলবো, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ যথেষ্ট পরিমাণে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ খুব সস্তা বিষয় নয় যে, এটা নিয়ে চাইলেই কাজ করে ফেলা যাবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করা বিষয়গুলো অনেক অনেক গবেষণার বিষয়। আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক শিল্পী আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা, দর্শনের জায়গাটা অনেক গভীর। তারা যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে এগিয়ে আসেন সেটা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জন্য ভালো হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা কাজ করতে প্রবীণ শিল্পীদেরই এগিয়ে আসা উচিত। 
 
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে অনেক নাটকও হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে কি বলবেন?
 
নাটকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বলতে কেবল রাজাকার, লুটপাট, হত্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধই দেখি। কিন্তু এসবের বাইরেও অনেক গল্প নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নাটক, টেলিফিল্ম তৈরি করা যায়। আমাদের পতাকার গল্প আছে, গল্প আছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আপনজন হারানোর। তবে তরুণ অনেক নির্মাতাই এখন তাদের ভাবনায় একটু ব্যতিক্রমভাবে মুক্তিযুদ্ধের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।       
 
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে চলছে?
 
এরইমধ্যে ঈদের কাজের শুটিং শুরু হয়েছে। এছাড়াও বেশকিছু চলতি ধারাবাহিকের কাজ করছি। আর খণ্ডনাটকের কাজ তো রয়েছেই। বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ও ‘আদি’ নামের দুটি চলচ্চিত্র। বর্তমানে শুটিং চলছে ‘দাগ’, ‘আসমানী’ ও ‘রাগী’ নামের ৩টি চলচ্চিত্রের।
 
আপনি তো মঞ্চের সাথেও জড়িত। সেখানকার ব্যস্ততা কেমন?
 
আমার অভিনয়ের হাতেখড়িই তো মঞ্চে। সেই ১৯৯২ সালে থিয়েটারের দল আর্তনাদ দিয়ে আমার অভিনয়ে পথচলা শুরু। বর্তমানে আমি প্রাচ্যনাট্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাচ্যনাটের নতুন একটি পরিবেশনা আসতে যাচ্ছে, নাম ‘ধলেশ্বরী অপেরা’। আসছে ৩১ মার্চ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন মঞ্চনাটকের পরিবেশনা করছি শত ব্যস্ততার মাঝেও।