‘সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে’

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৭, ২৩:২৯

সিলেটে সেনাবাহিনীর এই অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুবীর ভৌমিক। ভারতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ এবং বিবিসি'র সাবেক সাংবাদিক মুম্বাইয়ে হওয়া সন্ত্রাসী হামলা ও বাংলাদেশের হলি আর্টিজেনে হওয়া হামলার সঙ্গে চলতি অভিযানের তুলনা করে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জঙ্গিদের আত্মঘাতী আক্রমণের দৃঢ় প্রবণতা ও সবচাইতে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অভিযানে সবচাইতে ভাল ফল অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীর এই অভিযান আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তিন দিন ধরে অভিযান চললেও এখনো জঙ্গিদের পরাস্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও করছেন অনেকে। একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সুবীর ভৌমিক জানান, নিরাপত্তার জন্যই এই অপারেশনে বেশি সময় নেয়া হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যার সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণ কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না। এটি ছিল জঙ্গিদের পরিকল্পিত একটি কার্যক্রম। তারা সন্ধ্যার সময়টাকে বেছে নিয়েছিল পুলিশ ও আশপাশের মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। কোন রিমোট বোমা বা বাইরে থেকে তাদের সাহায্য করতে আসা দল এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশৃঙ্খল এক অবস্থার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিদের জ্যেষ্ঠ কোন সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা।

কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সুবীর ভৌমিক। ভারতের এই বিশেষজ্ঞ জানান, তিনদিন অনেক বড় সময়। এ সময়ের মধ্যে জঙ্গিরা অনেক কিছুই করার সুযোগ পেয়েছে। তাই ভারতের সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি)-র মত আকাশ পথে এই ভবনে ঢোকার চেষ্টা করার ক্ষেত্রেও অনেকবার ভাবতে হচ্ছে প্যারা কমান্ডো বাহিনীকে। কারণ সবচাইতে কম ক্ষতির মাধ্যমে সবচাইতে কার্যকর কাজটি করাই যৌক্তিক। আকাশ পথে ঢোকার ক্ষেত্রে বড় বাধার সম্মুখিন হতে পারে প্যারাকমান্ডো বাহিনী।

তিনি বলেন, ভারতের এনএসজি এলইটি জঙ্গিদের মোকাবেলা করতে গিয়ে একজন মেজরকে হারিয়েছিল। সিলেটে থাকা জঙ্গিরা হয়ত এলইটির জঙ্গিদের মত এতটা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নয়। কিন্তু তাদের আত্মঘাতী আক্রমণ প্রবণতা ও নিজেকে ধ্বংস করে হলেও আক্রমণ করার দৃঢ় মানসিকতা রয়েছে।

হলি আর্টিজন হামলার সঙ্গে এই হামলার তুলণা করে সুবির বলেন, সেখানে কমান্ডো বাহিনী দীর্ঘ সময় নেয়ায় জিম্মিদের হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। এখানে সেই সমস্যা নেই। গত তিনদিন ধরে র‌্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযানে সবচাইতে সফল দিক ছিল সাধারণ নাগরিকদের জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারা। এখন জঙ্গিরাও জানে, তাদের কোন 'হিউম্যান শিল্ড' বা জিম্মি নেই। সুতরাং বিল্ডিং জুড়ে তারা বোমা বসিয়ে রাখার জন্য গত তিনদিনে যথেষ্ট সময় পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার সময় পাকিস্তানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ভারতের এনএসজি আকাশ পথে হোটেলে প্রবেশ করে। কিন্তু পুরো বিল্ডিংয়ে বোমা লাগিয়ে রাখলে তা সম্ভব হবে না বাংলাদেশের কমান্ডোদের জন্য। তাই বাংলাদেশের কমান্ডোদের উচিত সময় নিয়েই বাকি কাজটুকু শেষ করা।

সর্বশেষে তিনি বলেন, ভারি অস্ত্র এ ধরণের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে খুব একটা কাজে লাগানো যায় না। এ অস্ত্র ব্যবহার করলে বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার বদলে মুম্বাই হামলার মত এখানে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে গিয়ে একটি একটি করে রুমের দখল নিতে হবে প্যারা কমান্ডো বাহিনীকে। এর জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/রাফাত