ওদের কাছে জীবনের চেয়ে দায়িত্ব বড়

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৭, ২৩:৫১

সিলেটের শিববাড়ীতে জঙ্গিদের ফেলে রাখা বোমায় প্রাণ গেলো পুলিশের দুই কর্মকর্তার। এরা হলেন জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও সিলেট সিটি পুলিশের বিশেষ শাখার কোর্ট পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়ছর। এই দুই কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীতে শোকের ছায়া বইছে। গতকাল সিলেট পুলিশ লাইন মাঠে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কামরুল আহসান, সিএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলামের নিহত হবার খবর শুনে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মনিরুল নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেজ ছেলে। নোয়াখালী প্রতিনিধি আলমগীর ইউসুফ জানান, মৃত্যুর সংবাদে তার   বৃদ্ধ মা ফিরোজা খাতুন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মনিরুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন আক্তার স্বামীকে হারিয়ে তাদের দেড় বছরের শিশুপুত্র ফারাবিকে জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

মনিরুল ইসলামের মামাতো ভাই সাংবাদিক মোহাম্মদ সোহেল জানান, মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার তার এক ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরিভিত্তিতে নিজ কর্মস্থলে ডেকে পাঠান। তিনি শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরিফ জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টায় পুলিশি সম্মাননায় মনিরুল ইসলামকে দাফন সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী মো. আবু কায়ছরের মরদেহ তার জন্মস্থান সুনামগঞ্জের জামাইপাড়ার বাসায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে।  সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, রাত ৮টায় পুলিশের পক্ষ থেকে তার মরদেহে সালাম নিবেদন ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ ইন্সপেক্টর চৌধুরী মো. আবু কয়ছরের ডাক নাম দিপু। সুনামগঞ্জ শহরের জামাইপাড়া এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৃত মোক্তার আছদ্দর আলীর চৌধুরীর ছেলে। সাত ভাই এক বোনের মধ্যে দিপু তৃতীয়। এক সময় সুনামগঞ্জে তিনি জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন। এই পুলিশ কর্মকর্তার কোনো সন্তান নেই।  

দিপুর ছোট ভাই চৌধুরী আবু জাবেদ নিপু বলেন, ২০০৭ সালে ডিভি লটারিতে বিজয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। দেশের সেবা করার জন্য আমেরিকা থেকে ফেরত আসেন তার ভাই। এরপর পুলিশে যোগ দেন।

ইত্তেফাক/নূহু