হাসপাতালে আহতদের আর্তনাদ, ৬ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৭, ০৯:২৫
 
সিলেটে শনিবার বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে শোকের মাতম। আহতদের আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
 
এদিকে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মোহাম্মদ কয়ছরের জানাজা সমপন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার জোহরের নামাজ শেষে নগরীর রিকাবি বাজারস্থ পুলিশ লাইন মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের লাশ নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিহত অপর ৪ জনের লাশও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
 
‘হঠাৎ কান ফাটা শব্দ, পরে রক্ত আর রক্ত’: সিলেটের তেলিরাই গ্রামের ফারুক মিয়া (৬৫) পায়ে স্নিন্টারের আঘাতে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছিলেন। গতকাল দুপুরে তিনি বলেন, ‘আরো একজনের সাথে দেখতে গেছিলাম জঙ্গি অভিযান। আমরা তখন একটি জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাত্ পিছনে শুনি কান ফাটা শব্দ, আমি সাথে সাথে পড়ে যাই মাটিতে। দেখি সবাই যেন লাশ হয়ে শুয়ে আছে। রক্ত আর রক্ত। পরে পুলিশ উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে আনে।’ এভাবেই হাসপাতালের বেডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সিলেটের গুটাটিকরে বোমা হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দেন মোস্তাক মিয়া (৩০), নজিম উদ্দিনসহ (২১) আরো অনেকে। 
 
হাসপাতাল বেডে চিকিত্সাধীন দক্ষিণ সুরমা থানার আহত ওসি হারুনুর রশীদ ইত্তেফাককে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় যখন শিববাড়ীতে অভিযান চলছিল তখন আমি ঐ এলাকায় ডিউটিরত ছিলাম হামলাস্থলের অদূরেই। হঠাত্ বিকট শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে যাই। গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন মাঠিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠাই। তখন এসবির আবু কায়ছর ও পরিদর্শক মনিরুলসহ কয়েকজন স্থানটিকে ক্রাইম সিনের ফিতা দিয়ে বেষ্টনি দিয়ে অবিস্ফোরিত একটি বোমার দিকে নজর দেন। আর তখনই সেটি বিস্ফোরিত হয়। সেই বোমা দুজনের প্রাণ কেড়ে নিল। ওসি হারুন জানান, কয়ছর ও মনিরুল দু’জনেরই  বিস্ফোরক বিষয়ে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমি সামান্য দূরে থাকায় আল্লার রহমতে বেঁচে আছি। তার হাতে ও উরুতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে।