কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে চীন

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৭:৫৪
দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের পর সেখানে বৃহৎ পরিসরে সামরিক স্থাপনা তৈরির পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনসহ আরো অত্যাধুনিক সামরিক স্থাপনাদি তৈরি যে কোন সময় হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য এশিয়া ম্যারিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইটিশিয়েটিভের (এমটিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের শাখা এমটিআই তাদের প্রতিবেদনে আরো বলেছে, চীনের এই অভিপ্রায়ের বাস্তবায়ন যে কোন মুহূর্তে হতে পারে এবং সে আশঙ্কাকে কোনভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। 
 
দ্য এশিয়া ম্যারিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইটিশিয়েটিভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্প্র্যাটলি আইল্যান্ডের তিনটি অংশ ফিয়েরি ক্রস,সুবি এবং মিসচিফ রিফে নৌ, বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। সংস্থাটির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেছেন,এ মাসে নেওয়া উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ফিয়েরি ক্রস ও সুবিতে নতুন র‌্যাডার অ্যান্টিনা সংযোজন করা হয়েছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক সামরিক স্থাপনা তৈরির বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদিও চীনের তরফ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে,দক্ষিণ চীন সাগরের কৃত্রিম দ্বীপ সামরিকীকরণের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা বাস্তবিক অর্থে সত্য নয়। 
 
যদিও এ কথার বিপরীতে দেশটির পক্ষ থেকে বলা সাম্প্রতিক কথাবার্তার সঙ্গে কোন মিল নেই। গত সপ্তাহে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেছিলেন,প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি ওই নতুন দ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে। আর এর মূল কারণ হচ্ছে বিতর্কিত এই নৌপথে তারা তাদের নিরাপত্তা বিধান করা। এ ব্যাপারে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বক্তব্য চাওয়া হলে তারা তা থেকে বিরত থাকেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং মঙ্গলবার বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নিয়ে যে যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। 
 
তিনি বলেন, স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ তাদের ভূখণ্ডেরই অংশ। এ ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। তিনি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সেখানে কি মোতায়েন হবে বা হবে না তা নিতান্তই একটা দেশের নিজস্ব ব্যাপার। কোন দেশ তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোন পদক্ষেপ নিতেই পারে। কেননা ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা বিধান করার অধিকার প্রত্যেক দেশেরই রয়েছে। 
 
এদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র কমান্ডার গ্রে রস এমটিআই’র এই প্রতিবেদন নিয়ে কোন মন্তব্য না করে বলেন, এ বিষয়ে কথা বলা প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ নয়। তবে একপর্যায়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের যে সামরিকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কেননা বিষয়টি শুধু চীন নয় এ অঞ্চলের সকলের ওপরই তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির