বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন শর্ট সার্কিট থেকেই

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৭, ১০:৩০
 
ইলেকট্রিক কেটলির শর্ট সার্কিট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের ১৪ তলার কক্ষটিতে আগুন লেগেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ‘শর্ট সার্কিট’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটিও জানিয়েছিল আগুন লাগার একই কারণ।
 
গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগলেও তা জনমনে বিভিন্ন   প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা নিতে হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট খোলারও প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী পরিচালনা পর্ষদ সভায় এটি পাশ হতে পারে বলে জানা গেছে।
 
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
 
জানতে চাইলে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগুন লাগার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সামান্য। এ ঘটনায় কারো অবহেলা  কিংবা গাফিলতি ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ওই রিপোর্ট পর্ষদও চেয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি প্রধান নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানান, ইলেকট্রিক কেটলির শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে। তিনি জানান, আগুনে তিনটি কম্পিউটার ও ইউপিএস, একটি করে স্ক্যানার ও ফটোকপি মেশিন, দুইটি প্রিন্টার, কয়েকটি চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ তলায় অবস্থিত বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগটি মঙ্গলবারও বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন ছিল। এদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফ্লোরটি পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।