মসুলে বিমান হামলায় দুই শতাধিক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘সম্ভবত’ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর একটি ভূমিকা রয়েছে। এমনটাই বলেছেন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিভ টাউনসেন্ড।
তবে এ কথার পাশাপাশি তিনি একটি তদন্ত চলছে বলে জানান এবং ওই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটও (আইএস) এর জন্য দায়ী হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। ওই হামলার ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এ মাসের প্রথম দিক থেকে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার সহযোগিতায় ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলে আইএসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে ইরাকি সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় গত ১৭ মার্চ মসুলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক বিস্ফোরণে প্রায় আড়াইশ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে দায়ী করা হয়।
প্রথম দিকে কিছু না বললেও, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে একটি বিবৃতি দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। তবে ওই বিবৃতিতে অভিযানের সময় হতাহতের জন্য কারা দায়ী সেই বিষয়টি এড়িয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এক মার্কিন কমান্ডার ওই হামলার জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করেন।
IMG0
ইরাকে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিভ টাউনসেন্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এমন হতে পারে যে মার্কিন বাহিনীর কারণেই ওই বিস্ফোরণ হয়েছে। আমার প্রাথমিক অনুমান ওইসব হতাহতের ঘটনায় সম্ভবত আমাদের ভূমিকা রয়েছে। তবে আমি জানি না, বিস্ফোরণস্থলে জড়ো হওয়া ওই মানুষগুলোকে শত্রুরাই (আইএস) এক জায়গায় জড়ো করেছিল কিনা।’
টাউনসেন্ড আরো বলেন, ওই হামলার নিয়ে একটি তদন্ত চলছে এবং আইএসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। ওই হামলার ঘটনাকে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন ইরাকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওসামা নুজাইফি। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদির সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক মিলি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে মার্কিন বাহিনী। আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির
