রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সিরিয়ায় তাদের অংশীদারিত্বের ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মস্কোয় পুতিন ও রুহানির এক বৈঠকে দুই নেতা তাদের এই অঙ্গীকারের কথা জানান। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে ইরান ও রাশিয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থক। এরকম প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় দীর্ঘ ছয় বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো রুহানির এই রাশিয়া সফর। সম্পর্কোন্নয়নসহ সিরিয়ায় দেশ দুটির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মূলত এ বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সিরিয়ার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাসে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া ও ইরান।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার রাশিয়া পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন হাসান রুহানি। এ সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট তার এ সফর রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ‘নতুন সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাশিয়া সফরে গিয়ে রুহানি এরই মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক ১৪ দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে ক্রেমলিনে সাক্ষাত্ করেন রুহানি। এ সময় দুই নেতা সিরিয়ায় তাদের অংশীদারিত্ব এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। পুতিন বলেন, ইরান রাশিয়ার আস্থাভাজন অংশীদার। মস্কো এবং তেহরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরভাবে কাজ করেছে। অপরদিকে রুহানি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, অপর্যাপ্ত বাণিজ্য সম্পর্ক সত্ত্বেও সিরিয়া বিষয়ে মতৈক্য ছাড়াও জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ইরানের প্রস্তাবিত ২০টি পারমাণবিক চুল্লির নয়টি নির্মাণ করছে রাশিয়া। একই সঙ্গে তেহরানকে এস-৩০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারে পরিণত হয়েছে মস্কো।
ইত্তেফাক/নূহু
