ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হলেও বিতর্ক দুই দলেরই পিছু ছাড়ছে না। সিরিজ শেষে ধর্মশালায় সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা আর বন্ধু নন।’
আর সেটা মুহূর্তেই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট বিশ্বে। কোহলির বিরুদ্ধে দানা বাঁধতে থাকে ক্ষোভ। যার ফল অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে সংবাদ মাধ্যমের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। গত বুধবারই অস্ট্রেলিয়া মিডিয়া বিরাটের ক্লাস নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন। এই বক্তব্যকে ইগোইটিক, বাচ্চাদের মতো ব্যবহারও বলা হয়। তুলনা করা হয় স্মিথের ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গেও। বলা হয় স্মিথের মতই কোহলিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। এমনকি সৌরভ গাঙ্গুলী পর্যন্ত কোহলিকে অসিদের ক্ষমা করে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
1/2 My answer at the post match conference has been blown way out of proportion. I did not categorically say the whole Australian team but
— Virat Kohli (@imVkohli) March 30, 2017
এতদিন চুপ করেই ছিলেন বিরাট কোহলি। তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুনছিলেন চুপচাপ। এ বার টুইটারে মুখ খুললেন তিনি। জানিয়ে দিলেন তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি কোনও ভাবেই পুরো অস্ট্রেলিয়া দলের কথা বলেননি। বিশেষ কয়েকজনের কথা বলেছেন। সেখানে বিরাট এও লেখেন, তিনি জানেন আইপিএল-এ বেঙ্গালুরু দলে কাদের সঙ্গে খেলতে হবে।
কোহলি বলেছিলেন, ‘সিরিজের শুরুতে আমি যেটা বলেছিলাম সেটা বদলে গিয়েছে। প্রথম টেস্টের আগে যেটা বলেছিলাম, সেটায় আমি ভুল প্রমাণিত হয়েছি। সেই কথা আমার মুখ থেকে আর কেউ শুনবে না।’
2/2only a couple of individuals.I continue to be in good terms with the few guys I know & who I've played with at RCB & that doesn't change.
— Virat Kohli (@imVkohli) March 30, 2017
সমস্যা বড় হয় যখন বেঙ্গালুরু টেস্টের শেষে স্মিথের ডিআরএস-এর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ড্রেসিংরুমের সাহায্য চাওয়া নিয়ে মুখ খোলেন বিরাট। পুরো ঘটনায় জড়িয়ে যায় দুই বোর্ড, আইসিসি, এমন কী সংবাদ মাধ্যম। বিরাটকে বিশ্ব ক্রিকেটের ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলে অসি সংবাদ মাধ্যম। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সিইও জেমস সাদারল্যান্ড বলেন কোহালি মনে হয় ‘সরি’র বানান জানে না। শেষ টেস্ট পর্যন্ত চলতে থাকে পুরো ঘটনা। মাঠেই রবীন্দ্র জাডেজা ও ম্যাথু ওয়েড জড়িয়ে পড়ে বচসায়। মুরলী বিজয়কে গালাগাল দিয়ে বসেন স্মিথ। সব মিলে মাঠের বাইরের লড়াইয়ে জমজমাট টেস্টে সিরিজ শেষ হলেও বাকযুদ্ধ থামছে না এখনও। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইত্তেফাক/রেজা
