দ্বিগুণ বেতন বাড়লে অখুশি কোহলিরা!

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৭, ১৭:০০
দেশের মাটিতে টানা চার সিরিজ জয়। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন। সবই করে দেখিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আর সেজন্য কোচ, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফদের পরিশ্রমের মূল্যায়ন করেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।
 
সপ্তাহ-খানেক আগেই ভারতীয় ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করে বাড়ানো হয়েছে । বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা এখন থেকে বার্ষিক দুই কোটি রুপি করে পাবেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে। গত বছরও যে অঙ্কটা ছিল এক কোটি করে। তবে এই বেতন বাড়লেও খুশি না হ|য়ে মনমরাই রয়ে গেছে কোহলি-অশ্বিনরা।
 
‘বিগত তিন মাস হলো নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড সিরিজ থেকেই বেতন কাঠামো নিয়ে কথা ওঠা শুরু হয়, প্রায় সব খেলোয়াড় এই বিতর্কে অংশ নেয়’ বিসিসিআইয়ের এক সূত্র এ কথা জানায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন সময়েই দলের কোচ অনিল কুম্বলে ইতোমধ্যেই দেশটির সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রশাসনিক কমিটির (সিওএ) সঙ্গে  বাঙ্গালরে দেখা করে নতুন বেতন কাঠামোর রূপ রেখা নিয়ে আলোচনাও করে আসেন। জানাযায়, কয়েকদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক কমিটির সঙ্গে খেলোয়াড় নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কথা বলতে যাবে। তবে প্রশাসনিক কমিটির একজন কর্মকর্তা এ ধরনের কোন মিটিং হওয়ার কথা জানা নেই বলে অস্বীকার করেছেন।
 
কোচ অনিল কুম্বলেও ২০১০ সালের পর দেওয়া নতুন বেতন-কাঠামো নিয়ে অসন্তুষ্টি গোপন করেননি। কিন্তু এ বিষয়ে কুম্বলের দেওয়া প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি বোর্ড। সিওএ এর কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন কুম্বলের দেয়া প্রস্তাব অনেকটাই নতুন কাঠামো দাঁড় করিয়েছে, যেটা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। সিওএ কর্মকর্তা জানান, ‘কুম্বলে নিজেও জানেন রাতারাতি কোনকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’ ‘খেলোয়াড়দের দাবিগুলো ধীরে ধীরে ভেবে দেখা হবে। এটা এমন কিছু নয় যে ২৪ কিংবা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সবকিছু পরিবর্তন করা যাবে। এটা পুরোপুরি পুন পুন বিবেচনার বিষয়।’, যোগ করেন তিনি। 
 
অবশ্য কুম্বলের প্রস্তাবের পর গত সপ্তাহে ৩২-ক্রিকেটার তাদের নতুন চুক্তির কাগজ হাতে পেয়েছে। এর মাঝে কোহলি, ধোনি ছাড়াও রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ও সহ অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, চেতশ্বর পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজা ও মুরালি বিজয় আছেন ‘এ’ গ্রেডে। তাঁদের বার্ষিক বেতন এখন থেকে দুই কোটি রুপি। গ্রেড ‘বি’-তে ঠাঁই মিলেছে যুবরাজ সিং, রোহিত শর্মাসহ মোট নয়জনের। এঁদের বার্ষিক বেতন ঠিক হয়েছে এক কোটি রুপি করে। আর যে ১৬ জন খেলোয়াড় জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন তারা পাবেন ৫০ লাখ রুপি করে। সহকারী কোচদের বেতনটা লোভনীয়। মাসে ১৫ লাখ রুপি করে পাবেন সঞ্জয় বাঙ্গার, আর শ্রীধর। বেতন ভাতা এখানেই শেষ হচ্ছে না। টেস্ট স্কোয়াডে থাকা প্রতি খেলোয়াড় ম্যাচ প্রতি পাবেন ১৫ লাখ রুপি (আগে এটা ছিল ৭ লাখ)। ওয়ানডের ক্ষেত্রে সেটা ৪ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ। টি-টোয়েন্টিতেও সেটা ২ লাখ থেকে হয়েছে ৩! ২০১০ সালের পর এই প্রথম বেতন কাঠামো পরিবর্তন করা হল।
 
এদিকে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কিছু বোনাসও দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ১ নম্বর স্থান অর্জন করায় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ৫০ লাখ রুপি, কোচ কুম্বলে ২৫ লাখ রুপি, কোচিং স্টাফরা ১৫ লাখ রুপি পাবেন। এছাড়া এক নম্বর টেস্ট দল হিসেবে বছর শেষ করায় আইসিসি থেকেও ১ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
 
তো দেখতেই পাচ্ছেন টাকার অঙ্কগুলো বেশ বড়। বিশেষ করে যখন জানবেন, প্রথম শ্রেণির শীর্ষ ক্রিকেটাররা চার দিনের ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার রুপি পান। কিন্তু কোহলিরা এতেও সন্তুষ্ট নন। কারণ অবশ্য আছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বোর্ডের অধীনে থাকা কোহলিরা মনে করছেন বোর্ডের মুনাফার তুলনায় তাদের বেতন কম হয়ে যাচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিসিসিআই এর মোট আয় ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৬৬ কোটি রুপি। এরমধ্য থেকে বোর্ড শুধুমাত্র ৫৬.৩৫ কোটি রুপি খেলোয়াড়দের বেতন দিয়েছে। সেই সঙ্গে ৪৬.৩১ কোটি রুপি খেলোয়াড়দের পেছনে বিশেষ ব্যয় হিসেবে গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টেস্টের শীর্ষ দলটি তাই বেতন ভাতা নিয়ে নিজেদের ক্ষোভটা আর আড়াল করতে রাজি নয়।
 
বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, কোহলির সমগোত্রীয় দুজন—জো রুট ও স্টিভ স্মিথ তাঁদের নিজ নিজ বোর্ড থেকে বার্ষিক বেতন যা পাচ্ছেন সেটা ভারতীয় অর্থে ৮ ও ১২ কোটি রুপি! ইএসপিএন ক্রিকইনফো।
 
ইত্তেফাক/রেজা