নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় মাসুল দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ত্রিপুরায় গেল ১৫০ টন লৌহ জাতীয় পণ্য

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৩৫
নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় মাসুল দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্টের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আবারো ভারতের ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। শনিবার ভোর ৬টায় আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ১৫০ টন লৌহ জাতীয় পণ্য নিয়ে ৬টি ট্রাক  ত্রিপুরা রাজ্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপর ১টায় আখাউড়া স্থলবন্দরে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসব পণ্য আগরতলায়  পৌঁছানো হয়েছে।
 
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ৮’শ ৩৩ টন লৌহ জাতীয় পণ্য নিয়ে এমভি নিউটেক নামের একটি জাহাজ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করে। গত ৩দিন এসব লৌহ জাতীয় পণ্য জাহাজ থেকে খালাস করে ট্রাকে উঠানো হয়। এ সব লৌহ জাতীয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে জিআই পাইপ, স্টিল সিটসহ অন্যান্য পণ্য। 
 
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়,ভারত-বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় ভারতের কলকাতার ডায়মন্ড হারবার পোর্ট থেকে গত ১৭ মার্চ লৌহ জাতীয় পণ্য নিয়ে দুটি কার্গো জাহাজ আশুগঞ্জ নৌবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। গত মঙ্গলবার বিকাল চারটায় এমভি নিউটেক নামের একটি জাহাজ ৮’শ ৩৩ টন পণ্য নিয়ে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে এসে নোঙ্গর করে। প্রথম দিনে ১৫০ টন পণ্য গেলেও পর্যায়ক্রমে বাকী পণ্য জাহাজ থেকে খালাস করে পর্যায়ক্রমে সড়ক পথে আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হবে। ভারতের কলকাতার ডায়মন্ড হারবার বন্দর থেকে এ সব লৌহ জাতীয় পণ্য ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ৪৫০ কিলোমিটার নৌ-পথ ও ৫০ কিলোমিটার সড়ক পথ ব্যবহার করছে ভারত।সংশোধিত নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় প্রতি টন পণ্য থেকে বাংলাদেশ সরকার মাসুল হিসাবে পাচ্ছে ১৯২টাকা ২২পয়সা।
 
পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনবিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের স্থানীয় ঠিকাদার বিসিসি‘র পরিচালক জিয়া উদ্দিন খন্দকার জানান, শনিবার ৬টি ট্রাকে ১৫০ মেট্রিকটন লৌহ জাতীয় পণ্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জিআই পাইপ গুলো সঠিক ভাবে বাধাই না হওয়ায় আবার নতুন করে বাধতে হচ্ছে। এতে করে পণ্য খালাস করতে সময় বেশী লাগছে।আশুগঞ্জ নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মোঃ শাহ-আলম জানান,গত মঙ্গলবার জাহাজ নোঙ্গর করার পর বুধবার থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়।শনিবার ভোরে কাস্টম কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রথম দফায় ১৫০টন পণ্য নিয়ে ৬টি ট্রাক বন্দর ছেড়ে গেছে। 
 
পণ্য পরিবহনের জন্য বিআইডব্লিওটিএ প্রতি  টনে এলএসসি, কার্যবেক্ষন ফি, বোর্ডিং চার্জ ও পাইলটেজ ফ্রি পাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতের সাথে ট্রান্সসিপমেন্ট চুক্তির আওতায় কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব পণ্য আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে।
 
উল্লেখ্য,১৯৭২ সালের নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় এর আগে মাশুল ছাড়াই পরীক্ষামূলক ভাবে ও মানবিক কারণে ২০হাজার টন চাল ও পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ ত্রিপুরা রাজ্যে নেয়া হয়। গত বছরের ১৬ জুন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপিসহ দু-দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাশুল দিয়ে আনুষ্ঠানিক ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করে।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির