জঙ্গিদের কাছে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:১৭
 
আত্মঘাতী হামলা চালাতে জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক মজুদ করেছে। গত এক মাসে সারাদেশের জঙ্গি আস্তানা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। বিস্ফোরক দিয়ে জঙ্গিরা নিজেরাই শক্তিশালী বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করছে। সবচেয়ে বেশি তৈরি করছে সুইসাইডাল ভেস্ট। এছাড়া তারা তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, কেতলি, বালতি ইত্যাদিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিস্ফোরক ব্যবহার করে বোমা বানাচ্ছে।
 
জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরকের বিষয়ে জানতে কয়েকদিন আগে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বম্ব ডিসপজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আশকোনায় এয়ারপোর্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ট্রলি ব্যাগে বহন করা তিনটি বোমা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এর কিছু উপাদান দেশেই তৈরি, যেমন স্প্লিন্টারগুলো দেশেই তৈরি। আবার কিছু উপাদান বিদেশি যেমন-ডেটোনেটর ও সার্কিট। বোমার রাসায়নিক উপাদান সালফার ও পটাশিয়ামের উৎস কোথায় তা তদন্ত করা হচ্ছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, সিলেটের শিববাড়ী, মৌলভীবাজারের নাসিরাবাদ ও বড়হাট এবং কুমিল্লার জঙ্গি আস্তানাগুলোতে ৫ কেজি থেকে ১৫ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এয়ারপোর্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে থেকে উদ্ধার করা ট্রলি ব্যাগের তিনটি বোমার মধ্যে একটি বোমা ছিল আনুমানিক ১৫ কেজি।
 
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, এত শক্তিশালী বোমার ব্যবহার অতীতে বাংলাদেশে ঘটেনি। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় অন্তত ৫০ গজ দূরত্বের মধ্যে সকল স্থাপনা কেঁপে উঠেছে। এমনকি এর স্প্লিন্টার অন্তত ৩০ গজ দূরে গিয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ছায়ানীড় নামক বাড়ি  থেকে একটি কার্টনে এসিড, লিকুইড কেমিক্যাল ও ১২ সেট পাওয়ার জেল, ছোট ছোট পাইপের টুকরা, সুইচ, স্প্লিন্টার ও ব্লাস্টিংস ক্যাপ পাওয়া গেছে। এসব সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ টি শক্তিশালী বোমা বানানো যেত। মীরসরাইয়ের জঙ্গি আস্তানা থেকে ২৯টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, ৪০টি পাওয়ার জেল, ২৮০ প্যাকেট কার্বন স্টিলবল ও ১১ কেজি বিস্ফোরক সদৃশ পাউডার পাওয়া গিয়েছিল।
 
গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ৭৮৭টি ডেটোনেটরসহ নব্য জেএমবি’র আবু তাহের, মিজানুর রহমান, সেলিম মিয়া ও তৌফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের জানায়, বড় মিজান ও ছোট মিজানের নির্দেশে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটোনেটর ঢাকায় নিয়ে আসে। এসব ডেটোনেটর দিয়েই ঢাকায় জঙ্গিরা নিজে গ্রেনেড তৈরি করে যা গুলশান হলি আর্টিজানে হামলায় ব্যবহার করা হয়।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে খনিতে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক ব্যবহূত হয়। ঐসব খনি থেকে কিছু বিস্ফোরক অসাধু ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়। আর ঐসব বিস্ফোরক সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। তবে এসব বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে জঙ্গিদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সহজে এদের হাতে পৌঁছে না। বিস্ফোরক পৌঁছাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে। আবার দেশীয় বাজার থেকেও জঙ্গিরা বিস্ফোরক সংগ্রহ করে। তবে দেশীয় বাজার থেকে তারা খুব অল্প বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে পারে।
 
সূত্রমতে, বোমা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়, সালফার, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম, গানপাউডার, পাওয়ার জেল, গন্ধক ও ব্ল্যাক পাউডার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পন্থায় সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে বিস্ফোরক পাচারকারীরা।
 
ইত্তেফাক/কাউছার