উত্তর ও দক্ষিণ মুগদাপাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ওয়াসা রোড, মদিনাবাগ, খালপাড় রোড, বিশ্বরোড, দক্ষিণ মুগদাপাড়া বাজার রোড, স্কুল গলি, ৭ নম্বর রোড, ব্যাংক কলোনি, আরব বেকারি রোড, জান্নাতবাগ রোড, শান্তিকানন, ওয়াপদা গলি, জিরো পয়েন্ট, সরদারবাড়ি রোড, বড় মসজিদ রোড, মুগদা প্রধান সড়ক এলাকা নিয়ে উত্তর মুগদাপাড়া ও দক্ষিণ মুগদাপাড়া এলাকা গঠিত। এই ওয়ার্ডে ভোটারসংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার।
উত্তর ও দক্ষিণ মুগদাপাড়ায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। অথচ শিশু-কিশোরদের জন্য কোনো খেলার মাঠ ও পার্ক নেই। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। এই এলাকায় ফেরি করে মাদক বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মাইন উদ্দীন বলেন, খেলার মাঠ ও পার্ক না থাকায় শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও নেই। সারা দিন চারদেয়ালের ঘরে তাদের বন্দী থাকতে হয়। এতে একসময় তাদের একটি অংশ মাদকাসক্তিতে ঝুঁকে পড়ে।
এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণ মুগদাপাড়ায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক বিশ্বরোড, বাজার রোড ও হাসপাতাল রোড। এর মধ্যে খানাখন্দে ভরা বিশ্বরোড ও বাজার রোড। বাতাসে উড়ছে ধুলাবালু। নাক-মুখ চেপে চলাচল করছেন পথচারীরা। ধুলাবালু থেকে বাঁচতে দোকানিদের সড়কে পানি ছিটাতে দেখা গেছে। মদিনাবাগের বাসাবাড়িতে আছে গ্যাসের সংকট।
এলাকায় মশার ব্যাপক উপদ্রব। খালপাড় রোডের স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ পালোয়ান বলেন, অলিগলিতে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। বাসিন্দারা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানান, মুগদায় ৫০০ শয্যার একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। বিশাল পরিধি ও অবকাঠামোর হাসপাতালটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা যায়। তবে প্রশাসনিক অবহেলায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদের ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স, স্টাফ এবং অন্যান্য লোকবল নেই। অথচ চিকিত্সার জন্য সেখানে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।
দক্ষিণ সিটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি খালি জায়গা না থাকায় মাঠ ও পার্ক করা যাচ্ছে না? কোথাও জায়গা পেলে তা করা হবে। সড়কে ধুলাবালুর বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, এই মৌসুমে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। এসব বাড়ি নির্মাণে ব্যবহূত ইট, পাথর ও বালু সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। খানাখন্দে ভরা সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় ওয়ার্ডের সব সড়ক সংস্কার করেছেন তিনি। নির্বাচনের পর প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
