যানজটে নাকাল উত্তরাবাসী

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ০০:৪৫

শহর থেকে একটু দূরে নিরিবিলি পরিবেশে আদর্শ জীবন-যাপনের জন্য উত্তরা মডেল টাউন (উপ-শহর) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয় সত্তরের দশকে। এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ সব রকম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে— এমন পরিকল্পনা করেই উত্তরায় ১৪টি সেক্টর নির্মাণ করা হয়। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরা এলাকায় ভোটার ছিলেন ৬৩ হাজারের বেশি। উত্তরায় বসবাস করেন কয়েক লাখ মানুষ।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের ৫২টি সড়ক সংস্কার করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন। এ সময় প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়ক, ১৫ কিলোমিটার ফুটপাত ও ২৭ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন নালা সংস্কার করা হয়।

উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তাগুলো আগের চেয়ে ভালো হওয়ায় বাসিন্দারা খুশি। নাগরিকেরা যেমন আশা করে, সেভাবে কাজ হলে সবাই সন্তুষ্ট হয়। সিটি করপোরেশন রাস্তাগুলোয় সবুজায়ন করতে গাছ লাগানোর চেষ্টা করছে।

চলতি অর্থ বছরেও উত্তরার ১৪টি সেক্টরের সব সেক্টরেরই কয়েকটি করে সড়ক সংস্কারের তালিকায় আছে। প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই বেসরকারি স্কুল অবস্থিত। স্কুলে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় পুরো সেক্টরে যানজট ছড়িয়ে পড়ে বলে এলাকার বাসিন্দারা জানান। মূলত শিক্ষার্থীদের নিতে ও দিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়িগুলোর কারণে এই যানজট তৈরি হয়। স্কুল চলার সময় এসব গাড়ি সড়কের ওপরেই পার্কিং করা হয়।

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ধানমন্ডি কিংবা ফার্মগেট থেকে উত্তরার দূরত্ব খুব বেশি না হলেও যানজটের কারণে পৌঁছাতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। আবাসিক এলাকা হলেও উত্তরায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বেশি হয়ে গেছে। যেখানে-সেখানে গাড়ি রেখে দেওয়ায় সেক্টরের ভেতরে যানজট হচ্ছে।

আবাসিক এলাকা হলেও উত্তরায় স্থায়ী কাঁচাবাজার নেই। ফলে বিভিন্ন সেক্টরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। কোথাও বসেছে ভাসমান কাঁচাবাজার। গলির মুখে পসরা সাজিয়ে বসছেন ভাসমান দোকানিরা। ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোয় পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

উত্তর সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খান বলেন, সার্বক্ষণিক এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। উত্তরার সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়েছে। গত দেড় বছরে অনেক সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। আর এক বছর পরে উত্তরায় কোনো খারাপ সড়ক থাকবে না।

যানজট সমস্যার বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সড়কে অবৈধ পার্কিং ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কয়েকটি সড়ক একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু