সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় একটি সন্দেহভাজন রাসায়নিক হামলায় কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইদলিব প্রদেশের খান শেইখোনে রাশিয়ান কিংবা সিরিয়া সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় বহু মানুষ দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে।
এরপরে হামলায় আহতদের সেবা দেয়া স্থানীয় ক্লিনিকে যুদ্ধবিমান থেকে রকেট ছোড়া হয়। সিরীয় সরকার সবসময় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে এসেছে। যদি রাসায়নিক আক্রমণের কথা নিশ্চিত করা হয় তাহলে ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরীয় গৃহযুদ্ধে এটি হবে সবচেয়ে ভয়াবহ রাসায়নিক আক্রমণের একটি।
IMG0
ইদলিবের স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্স সেবার প্রধান মোহাম্মদ রসুল বলেন, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে এই বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। ঘটনার ২০ মিনিট পরে যখন আমাদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স যায় সেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা দেখতে পান মানুষ রাস্তায় দমবন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু।
রসুল জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৬৭ জন নিহত হয়েছে ও আহত হয়েছে ৩০০ জন। বিদ্রোহীদের একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে নিহতের সংখ্যা ১০০। মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস মেডিকেল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১টি শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের লক্ষণের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়া, বমি ও মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া প্রকাশিত হচ্ছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি আক্রমণে কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইদলিব মিডিয়া সেন্টার দাবি করছে নার্ভ এজেন্ট সারিন দিয়ে এই হামলা করা হয়েছে।
IMG1
ইদলিব প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের একটি অংশ ও আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট হায়াত তাহরির আল শাম এর জোট নিয়ন্ত্রণ করে। এই এলাকায় সিরিয়া সরকার ও তার মিত্র রাশিয়ান বিমান বাহিনী ও ইসলামিক স্টেট বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট নিয়মিত বিমান হামলা করে।
সিরীয় বিদ্রোহীদের জোট ন্যাশনাল কোয়ালিশন বাশার আল আসাদের সরকারকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলকে এই হামলার তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
