এক যুগ আগে মারা যাওয়া ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিনের মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলার অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
মার্চের ২২ তারিখে আদালতে নিহত পলিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং আসামি পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ শুনানি করেন।
২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিন মারা যায়। ওই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ময়মনসিংহের কোতয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। কিন্তু ঘটনার ৮দিন পর পলিনের পিতা মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
২০১৩ সালের ২২ মে দাখিলকৃত বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাডেট কলেজের মিল্ক ব্রেকের সময় ভিকটিম শার্মিলা শাহরিন পলিনের হত্যাকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে উক্ত ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের সঙ্গে জড়িত ওই কলেজের অ্যাডজুটান্ট মেজর নাজমুল হক, এনসিও সার্জেন্ট নওশেরুজ্জামান, সিকিউরিটি গার্ড হেনা বেগম ক্যাডেট কলেজসূমহের ডিএ এজি মেজর মুনির আহাম্মদ চৌধুরী এবং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/২০২/২০৩/৩৪ ধারার অধীনে অপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
গত বছরের ৩ মার্চ ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আসামি পক্ষ। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে ও মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে।
ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।
ইত্তেফাক/রাফাত
