জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৭, ১০:২৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে হাতে হাত মিলিয়ে সমন্বিত প্রচারণা চালানোর জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই কাজে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
 
তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার ধর্ম। ইসলাম ধর্মে অসহায় এতিমদের সাহায্য করার কথা বারবার বলা হয়েছে। এই ধর্মকে কেউ হেয় করবে, কলুষিত করবে, এটা কখনই আমরা সহ্য করতে পারি না। কাজেই এক্ষেত্রে যারা আন্তর্জাতিক বিশ্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে। শান্তিতে বিশ্বাসী প্রত্যেককেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যেখানেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের উত্থান দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
 
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা-মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাদের মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 
মহাসম্মেলনে সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীর ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন নাসির বিন মোহাম্মদ আল খুজাইম এবং মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আব্দুল মোহসিন বিন মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল কাশেম উপস্থিত ছিলেন। প্রায় লক্ষাধিক আলেম-ওলামা-মসজিদের ইমাম মহাসম্মেলনে যোগ দেন।  
 
প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলামের মূল শান্তির বাণী মানুষের মাঝে প্রচার করার জন্য দেশের ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা শরিফ ও মসজিদে নববীর দুই খতিবের বক্তব্যে আসা কোরআনের বাণী গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে।
 
তিনি বলেন, এখন কোনো একটা মহল থেকে আমাদের পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করার জন্য চক্রান্ত চলছে। আজ যদি আমি প্রশ্ন করি, এই যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং যুদ্ধ লেগে থাকলে কারা লাভবান হয়? যারা অস্ত্র তৈরি করে, অস্ত্র বিক্রি করে তারা। কিন্তু তাতে লসটা হয় কাদের? মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করছে। মুসলমানদের রক্তে আজকে অন্যরা লাভবান হচ্ছে।
 
সারা দেশ থেকে আগত ওলমাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা শরিফ ও মসজিদে নববীর দুই খতিবের বক্তব্য সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে। আপনারা নিজেদের গ্রামে গ্রামে তাদের বক্তব্যে আসা পবিত্র কোরআনের বাণী পৌঁছে দিবেন।  
 
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীর ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন নাসির বিন মোহাম্মদ আল খুজাইম এবং মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আব্দুল মোহসিন বিন মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল কাশেম। তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অবস্থান জানিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
 
ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল প্রমুখ। মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি উপস্থিত ছিলেন।
 
আলেম-ওলামা মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। দেশের প্রায় সব জেলা থেকে লক্ষাধিক আলেম-ওলামা সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনকে  কেন্দ্র করে এর আশপাশের ২৫টি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি