আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় ভারতের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেননি। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান করে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ইতিবাচক ফলাফল দেশবাসী দেখতে পাবে। ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার দিন প্রধানমন্ত্রীকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশপ্রেমিক হিসেবে শেখ হাসিনা যেসব পদক্ষেপ নেবেন তা দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি নেবেন। তার প্রতি দেশের জনগণের আস্থা আছে। তিনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ১৪ দলীয় জোট তার সঙ্গে আছে, থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে ১৪ দলের। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ সমস্যা জিইয়ে রাখতে চায় না। তিস্তা ইস্যু নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, শেখ হাসিনা যেসব চুক্তি করেছেন তা দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করেছেন। বিএনপিসহ সবাইকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, শেখ হাসিনার শাসনামলে কোন চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, দেখাতে পারলে আমরা সমালোচনা গ্রহণ করব।
বৈঠকে এই দুই নেতা ছাড়াও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর :এদিকে রাজধানীতে অন্য একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মানুষের প্রতি মানবতাবোধ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৫শ শয্যার এই বার্ন ইনস্টিটিউটটি এখন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। গতকাল অপরাহ্নে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, টেমাসেক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র পরিচালক স্টেনলে লি, সিংহেলথের গ্রুপ ডিরেক্টর সহযোগী অধ্যাপক চুং ইয়ে লি, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট সহযোগী অধ্যাপক টান বিন কিম, ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও টেমাসেক ফাউন্ডেশন এবং সিঙ্গাপুর হেলথ সার্ভিস (সিংহেলথ)-এর মধ্যে গতকাল এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটের ডাক্তার ও নার্সদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য।
ইত্তেফাক/নূহু
