বিসিএস কার্যক্রম বছরেই শেষ করতে চায় পিএসসি

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৭, ০১:১৭

আগামীতে ১২ মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ করতে চায় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। পিএসসি জানিয়েছে, বিগত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ মাসে ৩৫তম বিসিএসের কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেছে। আগামীতে ১২ মাসে বিসিএস সম্পন্ন করার কর্ম-পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও)-৩৪ আদেশবলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর গত বছর ঘরোয়াভাবে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। আর এবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী। পরে পিএসসির হলরুমে সেমিনার ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ করে আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছি, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, দেশকে চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের মাধ্যমে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং এই প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তা আমাকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। অনেক রক্ত, অশ্রু এবং সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে যে দেশ পেয়েছি সে দেশের মানুষের দারিদ্র্য দূর করে তার জীবনমান উন্নত করার যে মহতী উদ্যোগ তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান। পিএসসির সচিব আকতারী মমতাজ স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেমিনারে ‘বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিকট প্রজাতন্ত্রের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএসসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান। এ প্রবন্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জনপ্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগে পিএসসির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধে স্বল্পতম সময়ে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নিয়োগ, লিখিত পরীক্ষার খাতা দ্বিতীয়বার মূল্যায়ন এবং বিসিএস (তথ্য-প্রযুক্তি) নামে নতুন একটি ক্যাডার সৃজনের প্রস্তাব করা হয়। নির্ধারিত আলোচক পিএসরি সদস্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, মুক্ত আলোচনায় পিএসসির সদস্যবৃন্দ, পিএসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

বিসিএসে বর্তমানে ২৭টি ক্যাডার রয়েছে। নতুন করে তথ্য-প্রযুক্তিকে ক্যাডারভুক্ত করার দাবি উঠেছে পিএসসির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। পিএসসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার খান তথ্য-প্রযুক্তিকে অবিলম্বে ক্যাডারভুক্ত করার জোর দাবি উপস্থাপন করেন। পরে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে দেশের তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারে তথ্য-প্রযুক্তিকে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তের দাবি রাখে। মন্ত্রী বিষয়টি ভেবে দেখবেন। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, নতুন সহস্রাব্দের বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জনপ্রশাসনে দেশপ্রেমিক, দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সততা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। পিএসসিকে আরও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা আবশ্যক। সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু