প্রথমে ব্যাটসম্যান বাবর আজমের সেঞ্চুরি ও পরে পেসার হাসান আলীর ৫ উইকেট শিকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সমতা আনলো পাকিস্তান। গতরাতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ৭৪ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ৪ উইকেটে জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম ওয়ানডের মত এ ম্যাচেও টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। কারণ আগের ম্যাচেই ৩০৯ রানের টার্গেট যে স্পর্শ করেছিলো হোল্ডারের দলের ব্যাটসম্যানরা। সেই লক্ষ্যে বল হাতে নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিকে ১৬ রানের বেশি যোগ করতে দেননি ক্যারিবীয় পেসার শানন গ্যাব্রিয়েল। ৫ রান করে ফিরেন ওপেনার আহমেদ শেহজাদ।

ব্যাট হাতে ভালো করার চেষ্টা করেছিলেন আরেক ওপেনার কামরান আকমল। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনিও। নামের পাশে ২১ রান রেখেই থামতে হয় তাকে। ৪৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলকে সামনের দিকে এগোনোর পথ দেখান বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ।
এই জুটির কল্যাণে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ তিন অংকে পেরিয়ে যায়। তবে দলীয় ১১৩ রানে এই জুটি ভেঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তৃতীয় সাফল্য এনে দেন অফ-স্পিনার আসলে নার্স। ৩২ রান করে নার্সের শিকার হন হাফিজ।
এরপর উইকেট গিয়ে বেশিক্ষণ কাটাতে পারেননি শোয়েব মালিকও। মাত্র ৯ রান করে লেগ-স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর শিকার হন তিনি। ১৫ রানের ব্যবধানে মিডল-অর্ডারে ভরসা করার মত দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আবারো চাপ অনুভব করে পাকিস্তান।
এবার পাকিস্তানের উপর থেকে সেই চাপ দূর করার মিশন শুরু করেন বাবর ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। মারমুখী মেজাজে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিলেন তারা। পুরোপুরি না হলেও, আংশিক সাফল্য পেয়েছেন তারা। কারন ৫৯ বলে দু’জনের ৫৫ রানের জুটিতে লড়াই করার পুঁজি পাবার আশা দেখতে শুরু করে পাকিস্তান। ২৬ বলে ২৬ রান করে সরফরাজ আউট হলেও, পাকিস্তানের রান সামনের দিকে এগিয়েছে বাবর ও সাত নম্বরে নামা ইমাদ ওয়াসিমের ব্যাটে চড়ে।
উইকেট ও পরিস্থিতির সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে আক্রমনাত্মক হয়ে উঠেন বাবর ও ওয়াসিম। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬৮ বলে ৯৯ রান যোগ করেন তারা। দু’জনের অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৮২ রানের বড় সংগ্রহই পায় পাকিস্তান।
দলকে এমন বড় সংগ্রহ এনে দিতে মূখ্য ভূমিকা রাখেন বাবর। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫তম ম্যাচে পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। এরমধ্যে চারটি এসেছে প্রিয় প্রতিপক্ষ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৩২ বলে ১২৫ রানে অপরাজিত থাকেন বাবর। তার সঙ্গী ওয়াসিমের সংগ্রহ ছিলো ৩৫ বলে ৪৩ রান। তার ইনিংসে ২টি করে চার ও ছক্কা ছিলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যাব্রিয়েল ২টি উইকেট নেন।

জবাবে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ব্যাট হাতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ প্রথম ওয়ানডেতে ৩০৯ রান তাড়া করে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জিতেছিলো তারা। তাই আবারো টার্গেট তাড়া করে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে খেলতে নেমে দলীয় ২২ রানেই প্রথম উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। ১০ রানে ফিরেন চাঁদউইক ওয়ালটন। অবশ্য দলীয় ১ রানেই প্রথম উইকেট হারাতে পারতো স্বাগতিকরা। যদি কভারে দ্বাদশ খেলোয়াড় ফকর জামান ক্যাচ না ফেলতেন।
জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি ওপেনার এভিন লুইস। দলীয় ২৭ ও ব্যক্তিগত ১৩ রানে পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমিরের শিকার হন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের চার উইকেট ৭৫ রানের মধ্যে হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ক্যারিবীয়রা। এসময় শাই হোপ ১৫, কাইরন পাওয়েল ১১, জনাথন র্কাটার ১২ ও আগের ম্যাচের হিরো জেসন মোহাম্মদ ১ রানে থামেন।
স্বীকৃত ব্যাটসম্যান যখন ষোলকলা ব্যর্থ, তখন নীচের দিকে দুর্দান্তভাবে লড়াই শুরু করেন অধিনায়ক হোল্ডার ও নার্স। তাদের সাথে তাল মিলিয়েছেন বিশু ও আলজারি জোসেফ। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কাজের কাজটুকু হয়, শেষ পর্যন্ত বড় হার এড়ায় ক্যারিবীয়রা।
সপ্তম উইকেটে হোল্ডার ও নার্স জুটি যোগ করেন ৫৮ রান। এরপর বিশুর সাথে অষ্টম উইকেটে ২৩ ও জোসেফের সাথে নবম উইকেটে ৫২ রান দলকে এনে দেন হোল্ডার। তাই শেষদিকে তিন জুটির ১৩৩ রানের কল্যাণে ৩১ বল হাতে রেখে ২০৮ রানেই গুটিয়ে যায় আগের ম্যাচ ৩শ’র বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জয় করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোল্ডার ৮৭ বলে ৬৮ ও নার্স ৪৩ বলে ৪৪ রান করেন। দু’জনের ইনিংসেই সমান ৬টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। এছাড়া বিশু ১৬ ও জোসেফ ১৫ রান করেন।
শুরুতে ২ ও শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ ব্যাটসম্যানকে শিকার করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত ৫ উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের হাসান। ক্যারিয়ার সেরা ৩৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাবর। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান : ২৮২/৫, ৫০ ওভার (বাবর ১২৫*, ওয়াসিম ৪৩*, গ্যাব্রিয়েল ২/৫০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২০৮/১০, ৪৪.৫ ওভার (হোল্ডার ৬৮, নার্স ৪৪, হাসান ৫/৩৮)।
ফল : পাকিস্তান ৭৪ রানে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।
ম্যাচ সেরা : বাবর আজম (পাকিস্তান)। বাসস/ইএসপিএন ক্রিকইনফো
