বিমান থেকে মারধর করে যাত্রীকে বের করে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি জানাচ্ছে, এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রশাসন।
গত রবিবার শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মার্কিন বিমান ৩৪১১ পাড়ি দেওয়ার কথা কেন্টাকির লুইসভিলের উদ্দেশে। কিন্তু, বিমানটি ওড়ার ঠিক আগে, ইউনিফর্ম পরা তিন নিরাপত্তারক্ষী আসনে বসে থাকা এক যাত্রীকে টেনে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসন থেকে টেনে-হিঁচড়ে সরানোর সময় ওই যাত্রীর পোশাকের একটা অংশ খুলে যায়। চোখের চশমা খুলে পড়ার উপক্রম। এমনকি, তাঁর নাক থেকে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছিলো তখন।
বিমানের ভেতর থেকেই ধারণ করা ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশের পর অন্তত ১৬ হাজার বার তা রিটুইট করা হয়। এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বার। বিমান থেকে যাত্রীকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে। এর আগে লেগিংস পরার জন্য দুই মহিলাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা নিয়ম না মানায় এভাবে বিমান থেকে নামাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোন নিয়ম মানেননি ওই চিকিৎসক উল্লেখ করে তারা আরো জানিয়েছে যে, কেন্টাকিতে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বার পাঠাতে হবে। তাই তাঁকে বিমান থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক জানান, রোগীর কাছে পৌঁছানো তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি। এর পরেই ওই ঘটনা ঘটে।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এক নিরাপত্তারক্ষীর। তদন্ত চলাকালীন তাঁকে কাজে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে। শিকাগোর বেসামরিক বিমান চলাচল দফতর জানিয়েছে, যে তিন নিরাপত্তা কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। এই বিবৃতিতে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী অস্কার মুনোজ জানান, ‘আমরা এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইছি। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
