পুঁজিবাজারের ব্র্যান্ডিং ও সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৯। ওইদিন সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ভবনে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমান মেলার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন। এ সময় অর্থসূচকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামরুন নাহার শরমিন উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে অর্থসূচকের উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ভবনে অর্থসূচক ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৯ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় পুঁজিবাজার অনেক পিছিয়ে আছে। আমাদের জিডিপি ও পুঁজিবাজারের মূলধনের অনুপাত মাত্র ১৭ শতাংশের মতো। অথচ পাশের দেশ ভারতেও প্রায় ৭৭ শতাংশ। মালয়েশিয়া ও হংকং এ তা ১০০ শতাংশের বেশি। দেশের অর্থনীতির স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে দেশে পুঁজিবাজারের বিকাশ খুবই জরুরী। সময় এসেছে শিল্পায়নে ব্যাংক নির্ভর অর্থায়ন থেকে বের হয়ে পুঁজিবাজার কেন্দ্রিক অর্থায়নের দিকে যাবার। সরকার বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এসব অবকাঠামোর জন্য যা পুঁজিবাজার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দাতা ও ঋণ নির্ভরতা থেকে বের হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সহজ হবে।
লিখিত বক্তব্যে অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত অর্থনীতির দেশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরো পড়ুন: চবির হলে তল্লাশি, ১২৬ রাউন্ড গুলিসহ ২টি পাইপগান উদ্ধার
তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিকে মাথায় রেখে এক্সপোতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের স্টল থাকবে।
তিন দিনের এই এক্সপোতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কলাকৌশল, পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ, ফিন্যান্সিয়াল রির্পোটিং কাউন্সিল ও পুঁজিবাজার, শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের অবদান ইত্যাদি বিষয়ে কয়েকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারে বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা খ্যাতনামা স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার, অ্যাসেট ম্যানেজার, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট প্রমুখ অংশ নেবেন।
অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো সকাল সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।
এক্সপোতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট লাগবে না। উল্টো প্রবেশ কুপনের র্যাফেল ড্রতে থাকবে মূল্যবান সব পুরস্কার। এক্সপোর প্রথম পুরস্কার রানার অটোমোবাইলসের সৌজন্যে একটি ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল। ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৯ এর লিড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে- জিপিএইচ ইস্পাত ও ক্রাউন সিমেন্ট। স্পন্সর হিসেবে আছে বিবিএস ক্যাবলস। এছাড়া দুটি সেমিনার স্পন্সর করছে, প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও ইউসিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
