ন্যূনতম করহার কমানোর প্রস্তাব সিপিডি’র

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:২১
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকর হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করা হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। পাশাপাশি অন্য সব পণ্যের দামও বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর। নতুন মূসক আইন বাস্তবায়ন হওয়ার পর সাধারণ জনগণেরও ওপর যাতে চাপ না পড়ে, সেজন্য ন্যূনতম কর হার কমানোর প্রস্তাব করেছে সিপিডি।
 
রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সুপারিশমালা তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাবনা পেশ করে সংস্থাটি।
 
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. মুস্তাফিজুর রহমান, সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন। 
 
তৌফিকুল ইসলাম খান তার মূল প্রবন্ধে বলেন, নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নকে নীতিগত সমর্থন করে সিপিডি। তবে আমরা মনে করি-১৫ শতাংশ মূসক হার অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এজন্য বিদ্যুৎসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে একবারে ১৫ শতাংশ হারে মূসক ধার্য না করে, ক্রমান্বয়ে সেটি বাড়ানোর সুপারিশ করছি।
 
২০১৬-১৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমানোর সুপারিশ করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই দুটি জ্বালানি দরিদ্র মানুষ বেশি ব্যবহার করে থাকে। এই দুটি জ্বালানি থেকে সরকার বেশি মুনাফা করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি সাশ্রয় হবে না। দাম কমালে গরিব মানুষ লাভবান হবে। 
 
সামষ্টিক অর্থনীতির অনেক সূচক বর্তমানে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে উল্লেখ করে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নের যে আকাঙ্খা রয়েছে- তা পূরণে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেটের আকার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে এখনও দুর্বলতা রয়ে গেছে। বাজেট যাতে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।
 
বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা কাটাতে সিপিডির প্রধান চারটি সুপারিশ হলো- রফতানি ও প্রবাসী আয় খাতকে সুবিধা দিতে স্বল্প মেয়াদে টাকার মূল্যমান কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে স্বাধীন আর্থিক খাত সংস্থার কমিশন গঠন। বাসস।