নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপকারী বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচতে এক ব্যক্তিকে সেনা জিপের সামনে দড়ি দিয়ে বেঁধে ‘মানবঢাল’ বানানোর ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ। গত সপ্তাহে কাশ্মীর উপত্যকায় উপনির্বাচন চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছে এবং চলতি সপ্তাহে এর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এ ব্যাপারে ভারতীয় সেনাবাহিনীও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, বিষয়টির খোঁজ নেবেন তিনি।
পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করা ও তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগ আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৯ এপ্রিল কাশ্মীর উপত্যকার শ্রীনগরে লোকসভার একটি আসনে উপনির্বাচন চলাকালে উত্তেজিত জনতা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছিল, ওই সময় ঘটনাটি ঘটে।
প্রায় ৪০০ লোক ওই নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করছিল দাবি করে সূত্রগুলো জানায়, জিপের ফেন্ডারে বাঁধা ওই ব্যক্তিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু তার ‘কোনো ক্ষতি করা হয়নি’।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেল ইউনিট জড়িত ছিল। ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে ফারুক আহমদ দার বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি কাশ্মীরের বুদগাম জেলার খাগ তেহশিলের সীতাহরণ গ্রামের বাসিন্দা। ফারুক তদন্তকারীদের বলেছেন, ভোট দিয়ে বোনের বাসায় যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে বীরওয়াহ গ্রামে প্রবেশের চেষ্টারত সেনাবাহিনীর একটি দল তাকে তুলে নেয়। ওই উপনির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এনডিটিভি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
