গণভোটে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে রায় আসার পরেই তুরস্কে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত জুলাই মাসে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে জরুরি অবস্থা চলছে। মাঝে কয়েক দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরে বুধবার (১৯ এপ্রিল) এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী নুমান কুর্তুলমুস জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘তুরস্কের কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স বিদ্যমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো তিন মাসের জন্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ১৯ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে।’ জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে। দ্রুতই এ অনুমোদন মিলবে বলে নুমান জানান। প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থার আওতায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করছে। তারা পূর্বানুমতি ছাড়াই যে কারো বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারছে এবং প্রয়োজনে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের অনুমতিও দেয়া হয়েছে।
গত জুলাই মাসে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জেরে গত নয় মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ৪৭ হাজার ১৫৫ জনকে। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। এ তালিকায় সেনা ও পুলিশ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, বিচারক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ নানান পেশার মানুষ আছেন। ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার অনুসারীরা জড়িত বলে এরদোয়ান অভিযোগ করেন। গুলেনকে হস্তান্তরের জন্য তিনি মার্কিন প্রশাসনের কাছে দাবি জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্স ও আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির
